মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙার ঘটনায় বিএনপি এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙার ঘটনায় বিএনপি এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

রাতের আঁধারে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি নামক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বিকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল তাদের আদালতে তোলা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ভাঙচুর ও দখলদারির পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাহ আলী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে নাম উল্লেখসহ দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে মিরপুর শাহ আলী মাজার গেট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা অর্থের বিনিময়ে পেশাদার ক্যাডার বা ভাড়াটে হিসেবে এই ভাঙচুরে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় সশস্ত্র ও মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি। নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে আলমারি ও লকার ভেঙে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি ওষুধ, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির বহু মূল্যবান সামগ্রী এবং নগদ অর্থ লুট করে নেয় তারা। লুটপাট শেষে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা-পাকা ভবন পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে দখলদারিত্বের বার্তা দিয়ে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেয় তারা।

১৯৭৪ সালে তৎকালীন সুইডিশ রাড্ডা বার্নেনের উদ্যোগে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু হয় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। পরে বাংলাদেশে স্থানীয় ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রজনন স্বাস্থ্য, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য ও বিভিন্ন পরীক্ষার সুবিধাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রিতেও এর নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে।

মালিকানা নিয়ে গণ্ডগোল কোর্টে নির্ধারিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শনিবার রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তির টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতে নির্ধারিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে স্থাপনা ভেঙে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত।

ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে : ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর। রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে রহস্যজনক একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথায় প্রশাসন, কোথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? এর পেছনে কারা রয়েছে, তা আর মোটেই অস্পষ্ট নয়।

রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সেন্টারটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর তার ভয়াবহ নিদর্শন। রাতভর প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ও নির্বিকার ভূমিকা গভীর উদ্বেগের বলেও জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য।

এদিকে ভাঙচুর ও দখলদারির পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে বলেও জানান নাহিদ।

মিরপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

এদিকে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মিরপুর জোন।

এছাড়া তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

এই হামলার ঘটনায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও ওই অঞ্চলের বাসিন্দা ফেরদৌসী আহমেদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করে আমার দেশকে বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। ফেরদৌসী আহমেদ ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন