জুলাই বিপ্লবে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় বাবার সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে বের হন মোস্তফা জামান সমুদ্র। পরে বাবা বাসায় ফিরলেও ছেলে আর ফিরে আসেনি। পুলিশ-বিজিবির ছোড়া গুলিতে শহীদ হয় সে । তার বাম বাহুতে একটি গুলি লেগে পাঁজর ভেদ করে বুকের ভেতরে চলে যায়।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শহীদের বাবা মনিরুজ্জামানের জবানবন্দিতে এসব তথ্য ওঠে আসে।
জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে শহীদের বাবা মনিরুজ্জামান তাজল বলেন, ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছেলে আমার সঙ্গে জুমার নামাজের জন্য বের হয়। পরে সে অন্য মসজিদে যায়। নামাজের পর সে বাসায় না ফেরায় আমি তাকে ফোন করে আসতে বলি। পরে আমার ছেলের ফোনে কল দিলে রাফাত নামে তার এক বন্ধু কথা বলে জানায়, আমার ছেলে দূরে আছে। এরপর আমার স্ত্রী আবার ফোন দিলে সে জানান, আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে ডেল্টা হাসপাতালে আছে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে। গুলি তার বাম বাহুতে লেগে পাঁজর ভেদ করে বুকের ভেতর চলে গেছে।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, পরে আমার সেখানে থেকে বেটার লাইফ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আমরা একটা ভ্যানে করে ছেলের লাশ নিয়ে এসে দাফন করি। পরে শুনেছি, রেদোয়ান, রাফাত, রাশেদ, মশিউর আমার ছেলেকে গুলি করেছে। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাও ছিলো। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। সাক্ষী তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আমি গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই
এদিন দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আমির হোসেনের স্ত্রী আননি। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার বয়স ৩০ বছর। আমার স্বামী ১৯ জুলাই জুমার নামাজের জন্য বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগদান করেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হাসান নামে একজন ব্যক্তি আমার বাড়িওয়ালাকে ফোন দিয়ে বলে আমার স্বামী রামপুরা একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে গুলি খেয়েছে। এরপর এলাকার লোকেরা আমার স্বামীকে বাসায় নিয়ে আসেন। তখন জানতে পারি তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় মারা গিয়েছে। আমার স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। আমি শুনেছি যে একটি গুলি আমার স্বামীর মাথার পিছন দিয়ে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বের হয়ে গেছে।
জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানতে পারি, আমার স্বামীকে যারা গুলি করেছে তাদের মধ্যে ছিলো রেদোয়ান ও রাফাত। আরো দুজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে, তারা হলেনÑ মশিউর রহমান ও রাশেদুল। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


