যুবদল নেতা মঈনের ৪ সহযোগী রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার

যুবদল নেতা মঈনের ৪ সহযোগী রিমান্ডে
ছবি: আমার দেশ

আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে (সিকেডি) 'চাঁদাবাজির' ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের চার সহযোগীর চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন, মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. সুমন ও মো. লিটন মিয়া।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তাদের রিমান্ডে নেওয়ার এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরে বাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. ছাব্বির আহমেদ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন

আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং তথ্যউপাত্ত পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিরা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রকৃত ঘটনার কথা স্বীকার না করে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় এবং গ্রেপ্তার, পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়া একান্ত প্রয়োজন।

এদিন রিমান্ডের পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। অন্য দিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ড নেওয়ার ওই আদেশ দেন আদালত।

রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে (মঈন) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের মালিকের মো. কামরুল ইসলামের কাছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে তার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে অভিযুক্তরা। এ সময় তার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন তাকে বলে, চাঁদা বাবত এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে বাদীসহ তার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।

এ জাহারে আরও বলা হয়, তিনি বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করেন এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত তার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে বাসায় আসতে ফোন করেন। পরে তার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।

এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত আসামিরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন