সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় কিংবা তাদের কোনো রাগ-অভিমানের কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি বলে আদালতে আপসনামা দাখিল করেছেন মরিয়ম আক্তারের পিতা মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ও মাকছুদা জামিনে মুক্তি পেলে তার কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতে জবানবন্দি দেন মরিয়মের বাবা।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বাদী নিজে উপস্থিত থেকে আপসনামাটি দাখিল করেন। সেখানে তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি অবগত হয়েছেন যে, তার মেয়ের জামাই ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় বা তাদের কোনো রাগ-অভিমানের কারণে তার মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি।
আপসনামায় আরও বলা হয়, উভয় পক্ষ নিকটাত্মীয় হওয়ায় সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে তারা আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন।
আপসনামার তিনটি শর্তে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি নেই। আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে উভয় পক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে একান্ত চেষ্টা করবে। বিচারাধীন বিষয়েও উভয় পক্ষ নির্লিপ্ত থেকে বিচারকার্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তবে আপসনামা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে, বাদীপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আপসনামাটি করানো হয়েছে এবং এ ধরনের মামলায় আপসের আইনি কোনো সুযোগ নেই।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীর ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। বাদী স্বেচ্ছায় নিজেই এই আপসনামা দিয়েছেন।
কেন নিজেই মামলা করে পরে আপস করতে চাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, মেয়ে মরিয়ম মারা যাওয়ার পর বাবা হিসেবে তিনি মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনি বিভিন্ন দিক থেকে দেখার পর তিনি যখন বুঝেছেন যে, গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী প্রকৃতভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তখন তিনি আপসের সিদ্ধান্ত নেন।
আপসনামা দাখিলের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। শুনানির সময় বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে তার আপত্তি নেই বলে জানান।
শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত সোমবার দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয় গাজী নজরুলকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওই দিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় মাঝে মাঝে রাত কাটাতে হতো।
মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছিল পুলিশ।
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।
পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার রুমে কিছু চিরকুট পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিনই নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাকছুদাও এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


