জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়ে রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন জুলাইযোদ্ধা নবী হোসেন সজীব। পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সম্মিলিত আক্রমণে তার শরীরের অসংখ্য পিলেট বিদ্ধ হয়। চিকিৎসা নিয়ে ২৫টি পিলেট বের করা হলেও পিঠের হাড়ের একটি পিলেট বের করা সম্ভব নয় বলে জানান চিকিৎসকরা। সব মিলিয়ে তার শরীরে এখানো প্রায় দেড়শটি পিলেট রয়েছে ।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এসব তথ্য তুলে ধরে ভুক্তভোগী জুলাইযোদ্ধা নবী হোসেন সজীব।
জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে নবী হোসেন সজিব বলেন, আমার বর্তমান বয়স ২২ বছর। আমি ‘সি’ ক্যাটাগরির গেজেটেড জুলাইযোদ্ধা। পেশায় একজন গ্রিল মিস্ত্রী। ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম । ওইদিন পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ হঠাৎ আমাদের ওপর গুলি চালাত থাকে। গুলিতে উত্তর বাড্ডায় একজন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একজন এবং মধ্য বাড্ডা ইউটার্নের সামনে একজন শহীদ হন। এছাড়া অসংখ্য মানুষ আহত হন। ছাত্র ভাইদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে গুলিবিদ্ধ কাউকে রিক্সায় এবং কাউকে ভ্যানে উঠিয়ে দিয়েছি। রাস্তায় অনেক রক্ত দেখে আমার বমি আসে। এরপর আমি বাসায় চলে যাই।
জবানবন্দিতে সজিব বলেন, ২০ জুলাই পুনরায় মেরুল বাড্ডা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। তখন টিভি সেন্টারের সামনে মেইন রোড থেকে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিতে দুই জন লোক শহীদ হন এবং অনেকে আহত হন।
জবানবন্দিতে এই জুলাইযোদ্ধা বলেন, ৫ আগস্ট আমি মেরুল বাড্ডার ১৫নং রোডে আন্দোলনে যাই। সেখানে অসংখ্য লোকের উপস্থিতি ছিল। একপর্যায়ে ছাত্ররা বলে আমরা মেইন রোডে যাবো। তখন পুলিশ মেইন রোড ঘিরে রেখেছিলো। এরপরও আমরা মেইন রোডে গিয়েছি। ওই সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও র্যাব আমাদের উপর গুলি বর্ষণ করে। তখন আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হই এবং সেখানে আরো দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। আমার শরীরে প্রায় ১৫০ টি পিলেট আছে। আমি প্রথমে কুর্মিটোলা এবং পরে ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিসা নিই। চিকিৎসকরা আমার শরীর থেকে ২৫টি পিলেট বের করেন।
তারা জানান, আমার পিঠে হাড়ের মধ্যে একটি পিটেল রয়েছে, যা বের করা সম্ভব নয়। আমি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য খুনি হাসিনা, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে সরকারকে দায়ী করি। আমি তাদের বিচার চাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


