আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জুলাই হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দিতে যা বলে গেছেন শহীদ ওসমান হাদী

স্টাফ রিপোর্টার

জুলাই হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দিতে যা বলে গেছেন শহীদ ওসমান হাদী

জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদী। গত বছরের ১৮ জুন জবানবন্দি দেন তিনি।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে হাদীর এই জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল এই আবেদন মঞ্জুর করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এরআগে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া বদরউদ্দিন ওমরের জবানবন্দিও সাক্ষ্য হিসেবে ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রহণ করেছিল।

বিজ্ঞাপন

এই মামলায় সব আসামি পলাতক। অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

জবানবন্দিতে হাদি বলেন, আমার নাম শরীফ ওসমান হাদী। ছোট বেলায় ঝালকাঠি শহরের ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করি। আলিম পাশ করে আমি ঢাকায় আসি। পরবর্তীতে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ সেশনে ভর্তি হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে অনার্স মাস্টার্স শেষ করি। বর্তমানে আমি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন কালাচারাল একটিভিজমের সঙ্গে জড়িত ছিলা্মে। কবিতা লেখালিখিসহ বিশেষ করে আজকে যে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যখন যে সুযোগ এসেছে, কখনো কবিতা, গল্প, গানে, প্রোগ্রামে সেই কালচারাল মুভমেন্টের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। সব সময় অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করেছি। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ বাংলাদেশের ২০২৪ সালের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সেখানে আমি একজন শরীক হিসাবে কাজ করবার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু এখানে বলা দরকার, ২০২৪ এ যে ঐতিহাসিক বিপ্লব হয়েছে এর কোর জায়গাটা হলো বৈষম্যের বিরুদ্ধ আন্দোলন। তারও আগে ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলন হয়েছে। বিসিএসের নবম ও দশম গ্রেডের ৫৪% এর বেশি বিভিন্ন ধরনের কোটা দিয়ে দখল করা ছিল।

জবানবন্দিতে হাদী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে বৈষম্যবিরোধী একটি সমাজ গড়তে চেয়েছিলাম, সেখানে বিভিন্ন ধরনের কোটা দিয়ে দিয়ে মেধাবী ছেলে মেয়েরা অনেক পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার ৫৪ শতাংশেরও বেশি বিভিন্ন কোটা দিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, পরবর্তীতে তাদের সন্তানদের না পেয়ে তাদের নাতি ইত্যাদি নামে ব্যবহার করে সরকারি প্রায় সকল খাতে তার দলীয় পোলাপানদের নিয়োগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। এদিকে আবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% ছিল। তারপর বহুত লোক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যদি এমন ৩০% কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-পুতিদের জন্য না রাখা হতো, তাহলে এমন মিথ্যা মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নেওয়া লাগতো না। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ করি, শেখ হাসিনা সরকার আদালতের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে ২০১৮ সালের পরিপত্র বাতিল করে দিয়েছে। তখন সারাদেশের স্টুডেন্টরা প্রতিবাদ করলেও কোন ফল পায়নি। বঙ্গভবনে স্মারকলিপি দিলেও কোন কার্যকর ফলাফল পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অযুহাতে তারা মানুষের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলতো।

তিনি বলেন, ১৪ জুলাই যখন আন্দোলন অনেকটা জোরালো তখন শেখ হাসিনা স্টুডেন্টদের রাজাকার, রাজাকারের বাচ্চা সম্বোধন করে। তখন সারাদেশের স্টুডেন্টরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টরা হলের গেট ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়ে এবং শ্লোগান দেয়, তুমি কে আমি কে? রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার। তখন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের উদয় হয়। আমি রামপুরা ছিলাম। ওই সময় আমি এবং আমার বন্ধু দ্রুত সিদ্ধান্ত নেই আমরা ক্যাম্পাসে যাবো। তখন আমরা একটা রিক্সা নিয়ে কাকরাইল এবং মৎস্য ভবনের সামনে আসলে দেখি রামদা, পিস্তল, চাপাতি, রড, হকস্টিক নিয়ে যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। সেখান থেকে আমরা ঢুকতে না পেরে হাইকোর্টের সামনে গিয়েও দেখি একই অবস্থা। তখন আমি আমার ছোট ভাই সমন্বয়ক আক্তারকে কল দিয়ে বলি এখানকার পরিস্থিতি বেশি ভালো না। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে তোমাদের আক্রমণ করার জন্য। তোমরা দ্রুত কর্মসূচি শেষ করো। পরে আমরা যখন বিভিন্ন দিক দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকার চেষ্টা করি, তখন আক্তার আবার আমাকে কল করে বলে ভাই আপনাদের আসার দরকার নাই। আমরা প্রোগ্রাম শেষ করে দিয়েছি। আপনার আর ক্যাম্পাসে ঢোকার দরকার নাই।

হাদী বলেন, সেদিন যুবলীগের সভাপতি পরশ, সেক্রেটারি নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম, সেক্রেটারি ইনান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের নেতৃত্বে মিছিল করে এবং স্টুডেন্টদের দেখা নেওয়ার হুমকি প্রদান করে। আমরা দেখেছিআইনশৃঙ্খলা বাহিনীই শুধু গুলি করেনি; তাদের বাহিরেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে আন্দোলনকালীন সময় বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে। আমরা দেখেছি নিখিল তার হাতে অস্ত্র নিয়ে গুলি করেছে। ফেনীতে ৭ জন, লক্ষীপুরে ৬ জন, ফেনীতে, কুমিল্লা দেবিদ্বারে এমপি নিজে গুলি লোড করছে। সব জায়গায়তে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা স্টুডেন্টদের গুলি করে হত্যা করেছে। এছাড়া আওয়ামীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বলেন আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। তার মানে তিনি একজন নন আর্মড অর্থাৎ একটি বেসামরিক ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা করার একটা বৈধতা দিয়ে।

জবানবন্দিতে ওসমান হাদী বলেন, ১৮ জুলাই কারফিউ জারি নিয়ে ১৪ দলের সঙ্গে ওবায়দুল কাদের মিটিং করেন। এরপর তাকে মিডিয়া যখন কারফিউ জারির বিষয়ে প্রশ্ন করলেন, তখন তিনি জানান দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।। এটা কি তিনি শুধু প্রশাসনকে বলেছেন? না। সেটা তিনি তার দলীয় সন্ত্রাসীদের অর্থাৎ যাদের হাতে অস্ত্র দিয়েছেন, তাদেরকেও সেই পারমিশন দিয়েছেন। জুলাইয়ের শেষের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন কারা শহীদ হয়েছেন? তখন রিক্সাওয়ালা, দিনমজুর, গার্মেন্টস কর্মী, শ্রমিক, শিশু। অর্থাৎ তখন এই আন্দোলন শুধু স্টুডেন্টদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তখন ১৭ বছরে যারা গুম হয়েছে, ক্রসফায়ার করেছে, জেলের মধ্যে বন্দী করে রাখা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন এবং বিরোধী দল, যারা ন্যায্য বিচার পায়নি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে তারাই রাস্তায় নেমে এসেছিল।

হাদি বলেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় থেকে ওবায়দুল কাদের বলেছেন মহানগর থেকে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ প্রতিরোধ গড়ে তোলবে। ৪ আগস্ট ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জেলায় অস্ত্র নিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে আক্রমণর করে হত্যা করেছে। ওবায়দুল কাদের তো তখন মন্ত্রী হিসেবে নয়, দলের সেক্রেটারি হিসেবে আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য প্রতি পয়েন্ট এক্সিকিউট করার দায়িত্ব ছিল বাহাউদ্দিন নাসিমের ওপর। বাহাউদ্দিন নাসিমকে দলের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ বহু মানুষকে হত্যা করেছে, তিনি সেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়া ছাত্রলীগের যেই ইনান, সে কিন্তু তার হাতে রিক্রুট। সেই কারণে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে ছিল। প্রত্যেকটা গণহত্যাকে সে লীড দিয়েছে, এক্সিকিউট করেছে এবং সে শেখ হাসিনার কাছে রিপোর্ট করতো।

১৪ জুলাই যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে গিয়েছিল, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বহিরাগতদের নিয়ে সেদিন মোহাম্মদ আলী আরাফাত প্রক্টোরিয়াল টিমের অনুমতি না নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হুমকি ধামকি দিয়েছে। এছাড়াও তিনি তথ্য সন্ত্রাস ছড়িয়েছেন। এই তথ্য সন্ত্রাসের কারণে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে বহু মানুষের জীবন চলে গিয়েছিল। কিন্তু শহীদ আবু সাঈদকে যখন প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন দে ওয়ার ড্রাংক। তার মানে কি মাদকাসক্ত ছিল।

হাদী আরো বলেন, যুবলীগের সভাপতি পরশের বড় পরিচয় তিনি শেখ হাসিনার আত্মীয়। মেয়র তাপসের বড় ভাই। এসব পরিচয়ের কারণে তাকে অনেক মন্ত্রীদের চেয়েও পাওয়ারফুল করেছে। ঢাকার দখলবাজি ও হত্যাকাণ্ডে যুবলীগ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতো। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছিল, সেটি তার নির্দেশেই হয়েছিল। সারাদেশে উসকানি দিয়ে তিনি তার দলীয় বাহিনী দিয়ে অসংখ্য হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হয়েছিল, তা যুবলীগের সেক্রেটারি নিখিলের নেতৃত্বেই হয়েছিল। যুবলীগের সেক্রেটারি নিখিল সারাদেশে তার বাহিনী দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। মিরপুরের এমনি হওয়ার সুবাদে মিরপুরে যখন আন্দোলন চলে তখন তিনি মিরপুরের অন্যান্য এমপিদের দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে গুলি চালিয়ে মানুষকে হত্যা করেছেন। ১৪ জুলাই রাতে সাদ্দাম হোসেন ছাত্রলীগ এবং বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদেরকে তার নেতৃত্বে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিল। এছাড়াও সে রাজু ভাস্কর্যে দাড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিল যারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে সে দেখে নিবে এবং তাদের জীবনকে তছনছ করে দিবে। ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার কারণে সে সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের হত্যা করার বৈধতা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাসাকারের মূল হোতা সাদ্দাম হোসেন।

জবানবন্দিতে হাদী বলেন, ১৩ জুলাই ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ইনান মধুর ক্যান্টিনে বলেছে ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন করবে। কিন্তু সেদিন সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আন্দোলন করছিল, তাদেরকে গেস্ট রুমে ডেকে ভয়ংকরভাবে থ্রেড করেছিল। এমনকি মেয়েদের মধ্যে যারা আন্দোলনে অংশগ্রগণ করেছিল, তাদরে গার্ডিয়ানদের ফোন করে ভয় দেখিয়েছিল। এরফলে পরের দিনই কিছু গার্ডিয়ান এসে তাদের মেয়েদের নিয়ে গিয়েছিল। ১৭ জুলাই ইনান শেখ হাসিনার সঙ্গে কিভাবে হত্যা করা হবে, কিভাবে সাফ করা হবে, কিভাবে আক্রমণ করা হবে, সে বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন। যার কল রেকর্ড আমরা আল জাজিরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি। সেক্রেটারি হিসেবে ইনান ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করিয়েছেন। আমাকে অসংখ্য নাম্বার থেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় আমি জিডি ও করেছি। অতি দ্রুত যদি এদের বিচার না করতে পারি, তাহলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভবিষ্যতে কি পরিমাণ গণহত্যা চালাবে, তা অকল্পনীয়। তাদেরকে বিচারের আওতায় না আনলে জুলাই এর গণঅভ্যুত্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। এই আন্দোলনে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া অর্থাৎ বিভিন্ন দেশ থেকে বহু সাংবাদিক, লেখক বিভিন্ন এক্টিভিস্ট অবদান রেখেছেন। যেহেতু আমি আইএলটিএস এ পড়াতাম, সেহেতু আমার অনেক স্টুডেন্ড বিদেশে ভালো ভালো জায়গায় আছে, তাদের থেকেও আমি বিভিন্ন ইনফরমেশন পেতাম।

জবানবন্দিতে হাদী আরো বলেন, সারাদেশে আন্দোলন দমনের নামে সংঘটিত, পরিকল্পিত গণহত্যাকাণ্ডসহ বর্বরোচিত হামলার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ ঘটনায় জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামীলীগের দলীয় ক্যাডারদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানাই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন