জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে ১০ হত্যা মামলা

স্বামী হত্যায় ট্রাইব্যুনালে শামীম ওসমানের বিচার চাইলেন শহীদের স্ত্রী

স্বামী হত্যায় ট্রাইব্যুনালে শামীম ওসমানের বিচার চাইলেন শহীদের স্ত্রী

জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে বদিউজ্জামান হত্যার ঘটনায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানের বিচারের দাবি জানিয়েছেন শহীদের স্ত্রী আদুরী খাতুন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি শেষে এই দাবি জানান তিনি।

জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আদুরী খাতুন।

জবানবন্দিতে শহীদ বদিউজ্জামানের স্ত্রী বলেন, ‘আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। আমার স্বামীর নাম শহীদ বদিউজ্জামান। তিনি নারায়ণগঞ্জে নীট কনসাট গ্রুপে চাকরি করতেন। আমিও নারায়ণগঞ্জে বনানী গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। ২০১৩ সালে বিয়ের পর থেকে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের এসিআই পানির কল এলাকায় বসবাস করতাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল বেলা আমার স্বামী নাশতা খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে চাষাড়ায় যান। এরপর তার সঙ্গে আমার আর যোগাযোগ হয়নি। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আমার দেবর স্বাধীন ফোনে বলেন, আমাকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে যেতে হবে। ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার স্বামী মৃত। তাকে হাসপাতালের বারান্দায় ট্রলিতে ফেলে রাখা হয়েছে।’

জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, ‘এরপর শামীম ওসমানের লোকজন দ্রুত আমার স্বামীর লাশ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে ফেলতে বলে। তখন আমরা লাশ বাসায় নিয়ে আসি। সেখানে লাশের গোসল এবং জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পুনরায় গোসল ও জানাজার পর লাশ দাফন করি। আমি এবং যারা আমার স্বামীর লাশকে গোসল করিয়েছে তাদের বর্ণনা অনুযায়ী আমার স্বামীর সারা শরীরে আঘাতের দাগ ছিল। আমার স্বামীকে দাফন করার তিন থেকে চার দিন পর আমি নারায়ণগঞ্জে ফেরত আসি।’

আদুরী খাতুন আরো বলেন, ‘আমি আমার দেবর স্বাধীন, মাহমুদ এবং নিউজ, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে জেনেছি, শামীম ওসমান এবং তার লোকজন আমার স্বামীকে আঘাত করে হত্যা করেছে। তারা আমার স্বামীকে ৫ আগস্ট সকালের দিকে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া গোলচত্বরের সামনে আঘাত করে। তারা আমার স্বামীকে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করেছে। যারা আমার স্বামীকে আঘাত করে, তাদের মধ্যে শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমান, টিপু ও আওয়ামী লীগের আরো অনেক লোক ছিল। ওই দিন কারফিউর কারণে আমাদের অফিস বন্ধ ছিল।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ব্যক্তিদের নামের যে গেজেট সরকার প্রকাশ করেছে, তাতে আমার স্বামীর নাম ৪৯১ নম্বরে রয়েছে। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন