চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষে দ্রুত নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে কার্যকর ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত নির্বাচন প্রয়োজন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে প্রশাসন বলছে, পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
চবির সপ্তম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৩ অক্টোবর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর গত ১০ মাসে চাকসুর বর্তমান কমিটি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ করতে না পারলেও, বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা সমাধানে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চাকসুর কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং পরবর্তী নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত
হবে—এ নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, দীর্ঘ বিরতির পর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র সংসদ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি। তাদের মতে, একটি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হলে আবারও গণতান্ত্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, সপ্তম চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়। নিয়মিত নির্বাচনই পারে চাকসুকে একটি কার্যকর ও ধারাবাহিক ছাত্র প্রতিনিধিত্বের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।
জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এখনো প্রায় দুই মাস সময় আছে। আমরা আশা করি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকতার সঙ্গে পরবর্তী চাকসু নির্বাচন আয়োজন করবে। আর আমাদের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা দরকার, সেটা করব।
বর্তমান চাকসু নেতারা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে সেই জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কতটুকু নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে পারবে? বৈষম্য দূর করে একটা নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
চাকসুর বর্তমান ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আমরা তো চাই এই চাকসুর মেয়াদ থাকা অবস্থাতেই তফসিল ঘোষণা করা হোক। তারিখ ঘোষণা করা হোক এবং প্রশাসন নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করুক। আমরা চাই আমাদের এই দায়িত্ব আমরা নতুন ক্যাবিনেটের কাছে হস্তান্তর করে যাব।
চাকসু নির্বাচন এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারভুক্ত না হওয়া বর্তমান চাকসুর বড় ব্যর্থতা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো দাবি জানিয়েছি। এখনো হাতে দুই মাস সময় আছে। আশা করি পরবর্তী কার্যনির্বাহী সভায় প্রশাসন এটা অন্তর্ভুক্ত করবে।
চবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহাথির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবদুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি রোমান রহমান এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জেস চাকমা জানিয়েছেন, তারাও চাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন চান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা না হলে দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী আমার দেশকে বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আশা করি, বর্তমান সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।
জানতে চাইলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, চাকসুর তো এখনো মেয়াদ রয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত চাকসু নির্বাচনে ২৭ হাজার ৫১৬ জন ভোটারের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৯০৭ জন। ভোট দেন ১৭ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী। ভোট কাস্টিংয়ের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই জয় পায় ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। বাকি দুই পদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এবং খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয় পান ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’-এর প্রার্থী তামান্না মাহবুব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

