মেয়াদ শেষ রাকসুর, পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

মেয়াদ শেষ রাকসুর, পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সোমবার। তবে নতুন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো বিধান না থাকায় বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ ২০টি পদে জয় পায়। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদেও এ প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

নির্বাচনের ১০ দিন পর ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। সেই হিসাবে গতকালই শেষ হয়েছে রাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদ।

১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি বা প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাবির সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ আলভি বলেন, রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে। অথচ পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো আপডেট নেই। এ নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়।

তিনি আরো বলেন, একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই রাকসু চাই। অন্যথায় রাজপথে দেখা হবে। আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।

রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, আমাদের সফলতা কেবল আমরা কী করতে পেরেছি বা পারিনি, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন পর রাকসুর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা যা করেছি, তা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে।

রাকসু এজিএস বলেন, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ স্যারকে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনি তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, পরবর্তী রাকসু অবশ্যই আদায় করে নিতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন কোনো প্রকার তালবাহানা না করেই প্রশাসন দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এটা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি আমরা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাকসু সফল না ব্যর্থ—সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আলোচনা করতে পারছেন, এটিও সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কী করা প্রয়োজন এবং কী করা হয়নি, তা শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত করতে পারছেন। তাই পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন এবং রাকসু আদায়ের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ভিসি স্যার পরবর্তী নির্বাচন দেবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। কিন্তু কার্যকরী সিদ্ধান্ত বা কোনো পদক্ষেপ আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি আরো বলেন, প্রথম থেকেই তো নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো আগ্রহ ছিল না। গতবার শিক্ষার্থীরা চারবার আন্দোলন করে নির্বাচন আদায় করেছে। এবার যাতে সেটা করতে না হয় সেটি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি । এরপরও যদি কোনো তালবাহানা করে তাহলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা রাকসু আদায় করে নেব।

নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কথা নেই। সে জন্য রাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন