ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিজ্ঞাপন

ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার মামলাটি করা হয়।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম এ কে এম মারুফ, আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন, মোহাম্মদ আখতার হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল হক, মো. আবদুল কাদের, মুহাম্মদ আবদুল করিম, মো. শহীদুল্লাহ, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মহসীন আলী ও রিদওয়ানুল হক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে আরামিট সিমেন্টের নামে ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। ২০১৭ সালের মে মাসে হিসাবটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়। একই বছরের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন। পরে ব্যাংক ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের অর্থ ছাড় করতে আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নামে ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব খোলা হলেও দুদকের অনুসন্ধানে নির্ধারিত ঠিকানায় কোনো কার্যালয় বা গুদামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এজাহারে বলা হয়, ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া চালান ও কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। বাস্তবে পণ্য সরবরাহ না করেই ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের বিপরীতে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। এসব পে-অর্ডারের অর্থ প্রথমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ঘুরে অর্থের একটি অংশ আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

এদিকে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ‘ভিশন ট্রেডিং’-এর নামে ইউসিবির চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের আরেকটি মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন