ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন, ডেঙ্গু সচেতনতা এবং অনুমোদনবিহীন স্থাপনা অপসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছাত্রদলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ সহযোগিতার কথা জানায় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক চাহিদা বিবেচনায় ক্যাম্পাসে ২০০টি ডাস্টবিন সরবরাহে সম্মত হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে এসব ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চান তারা।
ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে শুধু নির্দিষ্ট কোনো দিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার কথাও জানান তারা।
এ ছাড়া আগামী ৩ অক্টোবর ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী ‘ক্লিন ডে’ কর্মসূচি আয়োজনের কথা সভায় জানানো হয়।
সভায় উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ছাত্রদলের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
২০০টি ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ডাস্টবিন বসানোর জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করবে। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমকে টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আগামী ৩ অক্টোবর ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অংশ নেবে বলে জানান অধ্যাপক আবদুস সালাম।
ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যানজট সৃষ্টি এবং রাস্তা দখল করে থাকা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ও দোকান নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এসব স্থাপনা ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা)।
ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ ও সবুজায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সবুজায়নের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ক্যাম্পাসে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়েও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ছাত্রদলের প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকাগুলোতেও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।
স্থাপনা নির্মাণ ও মনুমেন্ট স্থাপনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ বা মনুমেন্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। স্থাপনার ধরন, প্রয়োজনীয় স্থান, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে। এর বাইরে কোনো স্থাপনা নির্মিত হয়ে থাকলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

