বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনে আসছে অটোমেশন

বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনে আসছে অটোমেশন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি। এর ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করেও পেনশনভোগীরা অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে নিয়মিত পেনশন ও ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রতি মাসে পেনশন ও ভাতা পেতে আলাদাভাবে বিল ফরম জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে হিসাব শাখায় গিয়ে বিল ফরম জমা দেওয়া তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ভোগান্তি দূর করতেই পেনশন ব্যবস্থা সহজীকরণের লক্ষ্যে গত ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি করা হয়। সদস্য হিসেবে ছিলেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খান। হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়। আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বাকৃবির পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। পেনশনভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরিরও সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাসিক পেনশন ও ভাতা বহাল রাখার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে পৃথকভাবে বিল ফরম জমা দেওয়ার প্রচলিত বিধান বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে পেনশনভোগীরা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

কমিটির রিপোর্ট গ্রহণ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক এবং গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায় এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন