বাসে মারামারির জেরে ইবিতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত বিভাগীয় সভাপতি

বাসে মারামারির জেরে ইবিতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত বিভাগীয় সভাপতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচতলার করিডোরে সংঘর্ষে শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাসে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির জেরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। আইসিটি বিভাগ ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচতলার করিডোরে এ সংঘর্ষ হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়াগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল বাসে গল্পগুজব ও উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় ও তার বন্ধুদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে দুজনই আহত হন।

উক্ত ঘটনার সূত্র ধরে বুধবার দুপুরে প্রক্টর কার্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক সমঝোতা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতার সিদ্ধান্ত হলেও সভা শেষে নিচে নামার পরই ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক আহ্বান মেনে আইসিটি বিভাগ থেকে মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক প্রক্টর অফিসে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, প্রক্টর অফিসের নিচে বাংলা বিভাগের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী জড়ো হয়। মিটিং শেষে নিচে নামামাত্রই বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে ড. শরীফুল ইসলাম নামে অপর এক শিক্ষক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হামলায় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহত আবু সাঈদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার পর বাংলা বিভাগের উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে গিয়ে পুনরায় জড়ো হয়। তারা ফের হামলার উদ্দেশ্যে বের হতে চাইলে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান ও অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের কঠোর অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীরা স্থান ত্যাগ করে।

এদিকে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন আইসিটি বিভাগের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি একাডেমিক সভা আহ্বান করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত শিক্ষার্থীদের শনাক্তপূর্বক কঠোর একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি এবং এক বিভাগীয় সভাপতিকে আহত করার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে প্রশাসন থেকে তাদের কাছে দুই ঘণ্টা সময় চাওয়া হয়েছে। আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন