জাতীয় বেতন কমিশনের বর্তমান কার্যক্রম ও গতি-প্রকৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
বৃহস্পতিবার সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এক বিবৃতিতে একথা জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রজাতন্ত্রের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি সম্মানজনক ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণের যে প্রত্যাশা নিয়ে এ কমিশন কাজ শুরু করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, কমিশন যেভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে শিক্ষক সমাজের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কমিশনের বর্তমান কর্মপদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আমাদের হতাশ করেছে। এম অবস্থার প্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মাকছুদুর রহমান সরকার কমিশনের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করায় আমরা তাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। তার এই সাহসী ও নীতিগত অবস্থান প্রমাণ করে যে, কমিশনের ভেতরে সুস্থ ও বস্তুনিষ্ঠ কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
তারা বলেন, আমরা ইতঃপূর্বে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ দাবিগুলো তুলে ধরেছিলাম। সে সময় তিনি আমাদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দৃশ্যত তার কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি না। যদিও একটি বৈষম্যহীন এবং সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো উপহার দেওয়া কমিশনের দায়িত্ব। আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, কমিশন যেন অতি দ্রুত তাদের বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ অবস্থান সংশোধন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা ও স্বার্থ বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য সুপারিশ পেশ করে।
তারা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল মনে করে, শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে কোনো বেতন কাঠামো গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা কমিশনের বর্তমান অসঙ্গতিপূর্ণ কার্যক্রমের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদেরকে নিয়েই করণীয় ঠিক করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

