আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাবিতে ৪ দিনব্যাপী কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ছাত্রদলের উদ্যোগে ঢাবিতে ৪ দিনব্যাপী কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে আয়োজিত চারদিনব্যাপী ‘হিফজুল কুরআন ও কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা–২০২৬ (সিজন–২)’ বুধবার সমাপ্ত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করেন।

গত রোববার (১ মার্চ) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকরা জানান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

হিফজুল কুরআন (৩০ পারা) এবং কুরআন তিলাওয়াত—এ দুটি প্রধান বিভাগে ক, খ ও গ গ্রুপে প্রাথমিক বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্যও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়।

প্রথম দিনের বাছাইপর্ব সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। পরবর্তী দিনগুলোতে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন হয়। বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর কারণে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি বিভাগে ১০ জন করে বিজয়ী নির্ধারণের পরিকল্পনা থাকলেও নম্বর সমান হওয়ায় ১৫ জন করে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় বলে আয়োজকরা জানান।

সমাপনী দিনে হিফজুল কুরআন (৩০ পারা) বিভাগে প্রথম ১০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রদান করেন ধর্মমন্ত্রী

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজের পাশাপাশি কুরআনের শিক্ষাকে জীবনে ধারণ করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কওমি মাদরাসাগুলোর অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুরআন শিক্ষায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধারাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া কামনা করেন এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। বিপুল অংশগ্রহণের কারণে একাধিকবার যাচাই-বাছাই করতে হয়েছে। আমরা কুরআনের হাফেজদের সম্মানিত করতে এবং শুদ্ধ তিলাওয়াত চর্চা উৎসাহিত করতে এ আয়োজন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময় সংগঠনটি ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার সম্মুখীন হলেও সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রতিযোগিতার পুরস্কারের অর্থ প্রধানমন্ত্রীর একক পৃষ্ঠপোষকতায় দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চারদিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...