প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহরে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বাসে ঈদযাত্রা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহরে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বাসে ঈদযাত্রা

প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহরগুলোতে নিজস্ব বাসে শিক্ষার্থীদের ঈদযাত্রার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ। টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের কারণে বাড়ি ফেরা নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ভিড় জমান বাড়ি ফেরা শিক্ষার্থীরা। তিনটি বাসে রংপুর, খুলনা এবং কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রাম রুটে শিক্ষার্থীদের যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়।

জানা যায়, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করে ২৩ ও ২৪ মে নির্ধারণ করা হলে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থীরা। সাধারণত ঈদযাত্রার টিকিট অন্তত ১০ দিন আগে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু নতুন সময়সূচির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাস বা ট্রেনের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হন।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার সকাল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয় এবং শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন।

সকাল থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক।

এ সময় তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখি পরীক্ষাগুলো ঈদের পরে চলে যাচ্ছিল। সেশনজট এড়াতে এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার ঠিক রাখতে কিছু পরীক্ষা ঈদের আগে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি যাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তাদের অনুরোধের ভিত্তিতেই আমরা এই ব্যবস্থা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে ধারণা ছিল খুব বেশি শিক্ষার্থী হয়তো যাবে না। কিন্তু এখন দেখছি অনেকেই এই সুবিধা নিচ্ছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. তানভীর মঞ্জুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি যেতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু যাত্রা সহজই করেনি, বরং ঈদের আনন্দও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন