চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার নিজের দলীয় লোক নিয়োগের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, যদি সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে আবারও আন্দোলন শুরু হবে। শতভাগ মেধার ভিত্তিতেই একটি দেশ গড়ে উঠবে এবং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে।
শনিবার দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), নির্বাচন কমিশন ও মহা হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো কাঠামোগুলোর গঠনমূলক সংস্কার করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবিই ছিল সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী শপথ গ্রহণ করলেও বিএনপি তা করেনি। তরুণ প্রজন্মকে দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই; তারা এমনি এমনি জুলাই বিপ্লব করেনি। সরকারকে অনুরোধ জানাই, বর্তমান প্রজন্মকে দুর্বল মনে করবেন না এবং আমাদের মেধাকে ধ্বংস করবেন না। শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছে, তার ফলেই আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত পরিবেশ ও আবাসন সংকটের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবির সভাপতি বলেন, এলাকায় এলাকায় রাস্তাঘাটে বিশ্ববিদ্যালয় বানানো হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা দিতে পারে না, তাদের শিক্ষার্থীদের সামনে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্টে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও হলগুলোতে তাদের সিটের ব্যবস্থা হয় না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পান, আর বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বাইরে থাকতে হয়। অথচ পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয় না।
তিনি আরো বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও উপ-উপাচার্যের (প্রোভিসি) নেতৃত্বে বাজেট লুটপাট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকার আদায় করতে শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘোষণা দিতে হবে যে, আগামী ২ বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা সব গণরুম ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ভেঙে ছোট ছোট সিট করে দেওয়া হয়েছে এবং এখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও মেধার ভিত্তিতে হলে সিট পাচ্ছে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ সংগঠনের নেতাকর্মী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রায় চার হাজার নবীন শিক্ষার্থী।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

