শেকৃবিতে নবীনবরণ

ছাত্রদলকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ায় অনুষ্ঠান বর্জন শিবির ও বৈষম্যবিরোধীদের

ছাত্রদলকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ায় অনুষ্ঠান বর্জন শিবির ও বৈষম্যবিরোধীদের

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শুধু ছাত্রদলের নেতাদের মঞ্চে আসন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এই অভিযোগে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মঞ্চে উপস্থিত অতিথি ও অনুষ্ঠানের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। এর কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠান বর্জনের সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান, নাকি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাধে কাধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরো শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সব ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, এদেশে জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বাইরে কাউকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্থান দেওয়া হতো না, আজও আমরা একই ধরনের চিত্র দেখলাম। শুধু ছাত্রদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারওই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, অনুষ্ঠানে অতিথির সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তাই সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ছাত্রদলের একজন বা দুজন প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং বিষয়টি তাদের আগের রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয়, এ অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্যের সুযোগ রাখা সম্ভব হবে না। আগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আজ চারজন ডিন, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সদস্য এবং বাইরের অতিথিরা উপস্থিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

ছাত্রদল ছাড়া অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময়স্বল্পতার কারণে আমরা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারিনি। এটি কোনো বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত ছিল না। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। তবে এত বড় একটি আয়োজনে শিক্ষার্থীদের এভাবে অনুষ্ঠান বর্জন করা ঠিক হয়নি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ বলেন, সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিতে পারলে ভালো হত। তবে সময় স্বল্পতার জন্য আমরা পেরে উঠিনি। ওরিয়েন্টেশনের জন্য কমিটি আলোচনা করে বক্তাদের সিলেক্ট করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন