রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শুধু শিক্ষা ও গবেষণার জন্যই নয়, তার সবুজ-শ্যামল পরিবেশের জন্যও শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে পুরোনো গাছগুলো যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া হাজারো শিক্ষার্থীর স্মৃতিবিজড়িত এমনই একটি গাছ এবার ভেঙে পড়েছে।
সোমবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে অবস্থিত সেই ছায়াদানকারী কৃষ্ণচূড়া গাছটি ভেঙে পড়ে ।
এটি শুধু একটি গাছ ছিল না, ছিল ক্যাম্পাসের এক টুকরো স্মৃতি। রোদে ঘেমে ও বৃষ্টিতে ভিজে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা তার ছায়ায় বসেছেন। কেউ বই খুলে পড়েছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতেছেন। পরীক্ষার ব্যস্ততার ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে অনেকেরই একটু স্বস্তির জায়গা ছিল এই গাছের ছায়া।
কৃষ্ণচূড়ার মৌসুমে দৃশ্যটা হয়ে উঠত আরো অন্যরকম। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা লাল ফুলে গাছটি যেন পুরো ক্যাম্পাসেরই এক আলাদা সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠত। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। কেউ হয়তো ছবি তুলেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে, কেউবা একা দাঁড়িয়ে স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন গাছটির সৌন্দর্য।
সময়ের সঙ্গে গাছটির বয়স বেড়েছে। কাণ্ডে এসেছে বার্ধক্যের ছাপ, ডালপালা হয়েছে দুর্বল। তবুও ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। নতুন প্রজন্ম এসেছে, পুরোনো প্রজন্ম বিদায় নিয়েছে কিন্তু গাছটি থেকে গেছে সেই একই জায়গায়। তাই এটি অনেকের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসের একটি স্মৃতির অধ্যায়ের সমাপ্তি।
গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের অনেকে সেখানে ছুটে যান। কেউ বিস্মিত হয়ে দেখেছেন তার বিশাল কাণ্ড, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন শেষ দৃশ্যটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা নাজ বলেন, কৃঞ্চচূড়া গাছটি অত্যন্ত সুন্দর একটি গাছ ছিল। দেখে কখনো মনে হয়নি যে এটা ভেঙে পড়বে।
একটি গাছ পড়ে গেছে। কিন্তু তার সঙ্গে পড়ে যায়নি তার স্মৃতিগুলো। লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুলে, পুরোনো ছবিতে আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর গল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া সেই গাছটি হয়তো বেঁচে থাকবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির পাতায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-57ed32.jpg)