ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও মামলার অভিযোগপত্র এখনো দাখিল হয়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এদিকে, স্বীকারোক্তি বদলে এখন নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন মামলার প্রধান আসামি কর্মচারী ফজলু।
চলতি বছরের ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিসকক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয় বিভাগের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে।
ওই ঘটনায় বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান ফজলুকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক কর্মচারী উপরেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এবং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও অন্য তিনজন এখনো পলাতক।
ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিখিত বক্তব্যে হত্যার দায় স্বীকার করেন ফজলু। সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলির ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ওই বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। তবে কারাগারে যাওয়ার পর নিজের আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যরা কারাগারে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা তার সাক্ষাৎকার নেন। কমিটির কাছে লিখিত জবাবে ফজলু দাবি করেন, থিসিস পেপার চাইতে রুনার কক্ষে গিয়ে তিনি দুই মুখোশধারীকে শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাত করতে দেখেন। বাধা দিতে গেলে তারা তাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকাল ৪টা ১ মিনিটে তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে পলিথিনে মোড়ানো বস্তু নিয়ে বের হন ফজলু। ৪টা ১০ মিনিটে তাকে দ্বিতীয় তলায় রুনার কক্ষের দিকে যেতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষিকার ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলে ফজলুকে নিজের গলায় ছুরি চালাতেও দেখা যায়।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, কারাগারে ফজলুর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তিনি মুখে বলতে না পারায় লিখিতভাবে উত্তর দেন। হত্যার কথা অস্বীকার করার পর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।
পরে সিন্ডিকেটের ২৭৪তম সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, আগের কমিটির প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। আসামি স্বীকার করুন বা না করুন, প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তারা কাজ করছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইবি থানার ওসি এসএম মামুনুর রশীদ আমার দেশকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত অনেক আগেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ হলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা করা হবে। তদন্ত শেষ করতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৯ জুন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। তবে প্রশাসনিক তদন্তের এসব উদ্যোগের মধ্যেও মামলার অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এখনো অপেক্ষমাণ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

