ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত ঐতিহাসিক মুঘল স্থাপনা মুসা খাঁ মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) থেকে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অনুদান ঘোষণা করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৭শ শতাব্দীর মুসা খাঁ মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তিনি এ প্রকল্পে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে মসজিদটি তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীর স্বকীয়তা পুনরুদ্ধার করবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক পর্যটনকে উৎসাহিত করবে, গবেষণার সুযোগ বাড়াবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, সংস্কৃতি সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং গত দুই দশকে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। তিনি জানান, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশে এ তহবিলের আওতায় ১৩তম উদ্যোগ।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু স্থাপনার নান্দনিক পুনরুদ্ধারই নয়, বাংলাদেশি প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা হবে, যা বিশ্বব্যাপী গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তিনি জানান, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে এই সংরক্ষণ প্রকল্পে কাজ করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন একাডেমিক গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার সুযোগ সৃষ্টি করবে, তেমনি সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি কেবল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি জ্ঞান ও প্রেরণার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

