ঢাবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ নির্যাতন, ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার

মাহির কাইয়ুম, ঢাবি

ঢাবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ নির্যাতন, ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হলেও পরে তা শারীরিক নির্যাতন ও হুমকিতে গড়ায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন ছাত্রদল নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চন্দন দাস, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ঝলক দাস ও মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রিপন চন্দ্র সরকার। তিনজনই জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাগর। তিনি ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদারের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তিনি। পায়ের সমস্যার কারণে বেঞ্চে পা তুলে বসেছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত চন্দন দাস ও ঝলক দাস তাকে পা নামিয়ে বসতে বলেন। জবাবে অভয় বলেন, জায়গা ফাঁকা থাকায় সমস্যা হওয়ার কথা নয়; কেউ এলে তিনি পা নামিয়ে নেবেন। তবে এই কথোপকথনের পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে অভয় তার কক্ষে ফেরার পর চন্দন দাস, ঝলক দাস, রিপন চন্দ্র সরকার এবং সাগর নামে চারজন তার রুমে প্রবেশ করে তাকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেন এবং চড়-থাপ্পড় দেন। এছাড়া তাকে হুমকি দেওয়া হয়, যেন ভবিষ্যতে তাকে চায়ের দোকান বা নিচে কোথাও দেখা না যায়।

অভয় কুমার সিংহ আমার দেশকে বলেন, ‘একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর রুমে গিয়ে এভাবে হামলা করা শুধু অমানবিক নয়, এটি হলের মানবিক পরিবেশের জন্যও লজ্জাজনক।’

তিনি দ্রুত বিচার দাবি করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তিনি ডাকসুসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চন্দন দাস বলেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। আমরা তাকে ওভাবে মারধর করিনি। বরং পরে জানতে পারি তিনি প্রতিবন্ধী। পরে আমরা সরি বলার জন্য তার রুমে গিয়েছিলাম।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রিপনের ফুপা বলেন, ঘটনার সময় রিপন উপস্থিত থাকলেও তিনি মারধরে অংশ নেয়নি। উপস্থিত বাকি তিনজন মারধর করেছে। রিপন মারধর করেনি। এছাড়া অভিযুক্ত ঝলক দাস ও সাগরের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরদিন সোমবার ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকারকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে ছয় সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব তথ্য প্রমাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন