বগুড়ার শেরপুরে মৃত পরিবহন শ্রমিকদের পরিবারের মাঝে এককালীন নগদ অর্থ অনুদান প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক সদস্যদের কন্যা, দায়গ্রস্ত পরিবার ও কৃতী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় ১২ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল ৫টায় বাসট্যান্ড করতোয়া বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে এ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এডহক কমিটির আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘প্রকৃত শ্রমিকদের যথার্থ মূল্যায়ন করতে হবে। শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তারা দেশের সম্পদ। শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর দেশের অর্থনীতির অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনগুলোকে লক্ষ রাখতে হবে, কোনো শ্রমিক যেন মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে। মাদক শুধু একজন শ্রমিককে নয়, তার পরিবার ও সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। শ্রমিকদের মাদকমুক্ত রাখতে সংগঠনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। শ্রমিকদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এডহক কমিটির সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু, বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ সিরাজ রব্বানী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জুয়েল, উপজেলা সম্মিলিত মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ও কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না, শেরপুর থানার ওসি মো. মঈন উদ্দিন, হাইওয়ে থানার ওসি আইয়ুব আলী, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক, মামুনুর রশীদ আপেল, সোহনুর রহমান লাবলু, জসিম উদ্দিন মন্ডল, শাহ আরিফ, আবু সাঈদসহ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে জানে আলম খোকা বলেন, শ্রমিকরা প্রতিদিন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের যাতায়াতের সেবা নিশ্চিত করছেন। শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণে সংগঠনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের যাতায়াতের সেবা দিয়ে থাকেন। কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শ্রমিক সংগঠন ও সমাজের মানবিক দায়িত্ব। শ্রমিকদের কল্যাণের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পরে মৃত পরিবহন শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য, শ্রমিক সদস্যদের কন্যা, দায়গ্রস্ত পরিবার ও কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে এককালীন নগদ অর্থের চেক তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে মোট প্রায় ১২ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

