রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় টিটিই সাময়িক বহিষ্কার, অবরোধ প্রত্যাহার

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় টিটিই সাময়িক বহিষ্কার, অবরোধ প্রত্যাহার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিনকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দুটি কমিটি গঠনসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রায় আট ঘণ্টার রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এরপর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার সকাল থেকে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।

মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয় তদন্ত করবে। অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন।

এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চার দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্য বলেন, রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে প্রক্টরিয়াল বডি, উপ-উপাচার্য, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। মারধরের ঘটনা, ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগসহ পুরো বিষয়টি তদন্তে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অবরোধ প্রত্যাহারের পর বিকেল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন