ইঞ্জিন রেখেই ছুটল চবির শাটল ট্রেন!

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ইঞ্জিন রেখেই ছুটল চবির শাটল ট্রেন!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে শাটল ট্রেনের ইঞ্জিন আলাদা করা মাত্র কোচগুলো হঠাৎ নিজে নিজেই গড়িয়ে শহরের ফতেয়াবাদের দিকে এগোনোর ঘটনা ঘটেছে। রেলওয়ে বলছে, ঠিক মতো ‘জাম’ না দেওয়ায় ঘটে এই বিপদজনক পরিস্থিতি। দ্রুত ইঞ্জিন গিয়ে কোচগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা হলে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

রেলওয়ের তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–ছাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ২৪৩/২৪৪ নম্বর শাটল ট্রেনটির ইঞ্জিন ছিল ২৬১১ নম্বর। শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি নিয়মমাফিক বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসে। স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিন রিভার্স করার নিয়ম রয়েছে, যাতে ফের নগরমুখী যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

৪টা ৩৩ মিনিটে ইঞ্জিনটি বগি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে বগিগুলো সঠিকভাবে জ্যাম না দেওয়ায় তা ধীরে ধীরে ফতেয়াবাদের দিকে গড়াতে শুরু করে। স্টেশনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিষয়টি খেয়াল না করলেও কিছুক্ষণ পর বগিগুলো নড়তে থাকলে চিৎকার করে অন্যদের সতর্ক করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বগিগুলো ধীরে ধীরে লাইনের দিকে এগোচ্ছে এবং আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করছেন।

ঘটনাটি শিক্ষার্থীরা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলেন, বগিগুলো হঠাৎ গড়াতে শুরু করলে সবাই ভয় পেয়ে যায়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, রোলিং শুরু হওয়ার পর চালক দ্রুত ইঞ্জিন নিয়ে গড়াতে থাকা বগিগুলোর দিকে এগিয়ে যান। ইঞ্জিন বগিগুলোকে ধরে ৪টা ৪০ মিনিটে আবার বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ইঞ্জিন রিভার্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শাটল ট্রেনটি ৪টা ৫৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন ত্যাগ করে।

ঘটনার সময় শাটলস্টেশনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বগিগুলো হঠাৎ গড়াতে শুরু করায় সবাই ভেবেছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শাটলে ট্রেনে থাকা আলমগীর হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, দেখলাম বগি নিজে নিজে পিছনের দিকে যাচ্ছে। কেউ বুঝতে পারছিল না কী হচ্ছে। সবাই চিৎকার করতে শুরু করল। যদি দ্রুত ইঞ্জিন গিয়ে ধরত না, তাহলে ট্র্যাকের কোথাও গিয়ে বগিগুলো লাইনচ্যুত হতে পারত। এতে বড় দুর্ঘটনা হতে পারত।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানান, এটি জ্যামিং ত্রুটি। বগিগুলো সঠিকভাবে জ্যাম করা হয়নি। সেই কারণে রোলিং শুরু হয়। তবে ইঞ্জিন দ্রুত যুক্ত করায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে ঠেকাতে জ্যামিং ও শান্টিং ব্যবস্থার ওপর আরো সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ জানতে অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলছে।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, বগিগুলো সঠিকভাবে জ্যাম না দেওয়ার কারণেই রোলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন করার সময় নিয়ম অনুযায়ী জ্যাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা ঠিকমতো হয়নি। তবে ইঞ্জিনচালক দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, তাই কোনো বড় দুর্ঘটনা হয়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং কেন জ্যামিং হয়নি, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শাটল ট্রেনের বিভিন্ন সমস্যা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, সিগন্যালিং ত্রুটি, বগির পুরোনো অবস্থা এবং নিরাপত্তার অভাব—নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন।

তারা বলছেন, প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। তাই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা প্রাণঘাতী হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন