সিডনির বন্ডি বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবে ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২ নভেম্বর থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে এই কর্মসূচি চালু হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কা উদ্যাপন অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেয় সরকার।
নতুন কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষ তাদের রাইফেল ও হ্যান্ডগান সরকারের কাছে জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি অস্ত্র ফেরত দেওয়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ১ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪১ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এর মধ্যে ১১ লাখের বেশি ছিল দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অস্ত্র আইন নিয়ে দেশবাসীর গর্ব করার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে বাস্তবতা হলো, ১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার হত্যাকাণ্ডের পর যে অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, তার সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে অস্ত্রের সংখ্যা আরও বেশি।
১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থারে বন্দুক হামলায় ৩৫ জন নিহত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। নতুন এই উদ্যোগটিকে সেই সময়ের পর দেশটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বন্ডি বিচ হামলার পর নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একজন ব্যক্তির কাছে সর্বোচ্চ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার আশা করছে, নতুন অস্ত্র ফেরত কর্মসূচির মাধ্যমে অবৈধ বা অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রের সংখ্যা কমবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের বন্দুক হামলার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

