৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোর ৪টা। চারপাশ যখন গভীর ঘুমে, তখন হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলতে শুরু করে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের কদম রসুল মাদ্রাসা বাজার। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশাপাশি থাকা দোকানগুলোতে। খবর পেয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কেউ দোকানের শাটার খুলে মালামাল বের করার চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতায় অধিকাংশ দোকানের কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে বাজারের ছোট-বড় প্রায় ৪০টি দোকান পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকানে ব্যবসা করে আসা প্রায় ৪০ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আগুনে পুড়ে গেছে মজুত পণ্য, ব্যবসার পুঁজি ও প্রয়োজনীয় মালামাল। অনেকের জন্য এই দোকানই ছিল পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দোকানগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তাদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।
সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ভোর ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে বাজারের প্রায় ৪০টি ছোট-বড় দোকান পুড়ে গেছে।
আগুনের খবর পেয়ে ভোরেই বাজারে ছুটে আসেন ব্যবসায়ীরা। নিজেদের দোকানের মালামাল রক্ষায় তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী শুধু চোখের সামনে নিজেদের দোকান পুড়তে দেখেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সঞ্চয় দিয়ে তারা ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। কেউ ধারদেনা করে পণ্য তুলেছেন, কেউ জমানো টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এসব দোকানের আয় দিয়েই চলত তাদের সংসার। আগুনে পুঁজি হারিয়ে এখন নতুন করে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন, দোকানটাই ছিল পরিবারের ভরসা। চোখের সামনে সব পুড়ে গেল। এখন নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো পুঁজি নেই।
স্থানীয়রা জানান, বাজারে দোকানগুলো ঘনভাবে থাকায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের স্থাপনা ও বসতবাড়িও ঝুঁকিতে পড়ত। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর বাজারের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি সামনে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বাজারে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক লাইন ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন। জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত প্রবেশের ব্যবস্থারও দাবি রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দ্রুত সহায়তা না পেলে দীর্ঘদিনের ব্যবসা আবার চালু করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে।
আগুন নিভেছে, কিন্তু ৪০ ব্যবসায়ীর জীবিকা থমকে গেছে। পোড়া দোকানের ধ্বংসস্তূপে এখন পড়ে আছে তাদের ব্যবসার পুঁজি ও মজুত পণ্যের অবশেষ। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি—ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক, যাতে আগুনে পুড়ে যাওয়া ব্যবসাগুলো আবার চালু করার সুযোগ পান তারা।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

