ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ ঢাবিতে টিকে থাকতে পারেনি: উপাচার্য

ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ ঢাবিতে টিকে থাকতে পারেনি: উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়কে দমন করে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ঠেকানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়কে দমন করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনও ঠেকানো সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের ঘটনাকে স্মরণ করে ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। পরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাই উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে কেউ অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে টিকে থাকবে, সেটা যেন না হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠান কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি।’

২০০৭ সালের ২০ আগস্টের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার যে বিভীষিকাময় সময় পার করেছে, তা এখনও সবার স্মৃতিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব দেওয়া ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর নানা ধরনের চাপ, হয়রানি ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

ওই সময়ের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের কয়েকজনকে কারাবরণ করতে হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন থেমে থাকেনি।

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কোনো ধরনের অন্যায়, দমন বা নিপীড়ন হলে তার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। ঢাবিকে দমানোর চেষ্টা ছিল অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঠেকানোর চেষ্টা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই অন্যায়, নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এর স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর চালানো নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়কে দমিয়ে রাখা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দুর্বল করা।

তিনি বলেন, ‘যতবারই অগণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশে এসেছে, তখনই প্রথম আক্রমণটা পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর।’

২০০৭ সালের ঘটনায় কারাবরণকারী তৎকালীন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বলেন, ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তা ছিল অভূতপূর্ব।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২৩ আগস্ট রাতে অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ ও অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে নিজের নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি নিজেও আত্মসমর্পণ করেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

অধ্যাপক সদরুল আমিন বলেন, ২৩ আগস্টকে শুধু ‘কালো দিবস’ হিসেবে না দেখে ‘সম্প্রীতি ও সংহতি দিবস’ হিসেবেও পালন করা যেতে পারে। কারণ ওই সময়ের সংকট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে এক বিরল ঐক্য ও সংহতির জন্ম দিয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন