প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী ও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘RED CARD TO BNPIZATION’ শিরোনামে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়া প্রার্থীদের দ্রুত পুনর্বহাল, সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ বন্ধ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, বুধবার চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় ১৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হলেও পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে প্রায় ১২ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হলে তা সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম বলেন, সরকার আমাদের দাবি মেনে না নিলে ক্ষমতা থেকে কীভাবে নামাতে হয়, সেটা ছাত্রসমাজ ভালোভাবেই জানে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ করছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে যাচ্ছে। আমরা দলীয়করণের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
এসময় সরকারি চাকরিতে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হাসিব আল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা; তাই নতুন করে কোনো দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা মেনে নেওয়া হবে না। সরকার জনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে এর বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ আবারও আন্দোলনে নামবে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনর্বহালেরও দাবি জানান তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আইয়াম বলেন, সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে কোনো চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলে তা সাংবিধানিক সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
তিনি বলেন, ‘‘চাকরি পেতে হলে কেন বিএনপি করতে হবে? একজন শিক্ষার্থী চাকরি পাবে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। তাকে কোনো দলের বা মতের পক্ষপাতিত্ব করতে হবে না।’’
ফেরদৌস আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত না করা হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে না।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জহির রায়হান রিপন বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবিরোধী কার্যক্রম চালিয়েছে বলে তারা মনে করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সার সংকট এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে দলীয়করণের একটি পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হওয়ার কারণে কাউকে সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করা যাবে না। সরকারি চাকরি কোনো দলের পুরস্কার নয়। একজন শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রার্থীকে চাকরি পেতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। চাকরি পেতে হবে তার মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে।
এ সময় তিনি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং ভাইভা নম্বর বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে যেসব প্রার্থীর নিয়োগ আটকে গেছে, তাদের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত করে দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না।
তারা আরও বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের মাধ্যম হতে পারে না। সরকারি নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার নীতি নিশ্চিত করতে হবে। সুপারিশপ্রাপ্ত যেসব মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের দ্রুত পুনর্বহাল করে চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে।
তারা বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যারা চাকরির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বিবেচনায় আটকে রাখা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

