শেখ রাসেল কর্নার সরিয়ে ছাত্রদলের লোগো, হাবিপ্রবির হলে নতুন বিতর্ক

শেখ রাসেল কর্নার সরিয়ে ছাত্রদলের লোগো, হাবিপ্রবির হলে নতুন বিতর্ক

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) খাতা-কলমে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও শহীদ নূর হোসেন হলের কমন রুমে ছাত্রদলের লোগো লাগানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ নূর হোসেন হলের কমন রুমের দেয়ালের এক অংশে ছাত্রদলের দলীয় লোগো লাগানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা দেয়ালের ওই অংশকে ‘শেখ রাসেল কর্নার’ হিসেবে নামকরণ করেছিল। গত ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের এই কর্নার সরিয়ে ফেলেন। তবে সম্প্রতি একই স্থানে ছাত্রদলের দলীয় লোগো লাগানোয় পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি নতুন করে শুরু হলো কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে শহীদ নূর হোসেন হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির। সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এর সমালোচনা করেছেন।

এ বিষয়ে নূর হোসেন হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, লোগো লাগানোর বিষয়ে আমি এখনো জানি না এবং কেউ আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। যেহেতু ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান রয়েছে, সেহেতু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

তবে হলে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার কথা নাকচ করে দিয়েছেন হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এহসানুল কবির অর্ণব। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় লোগোটি ছোট ভাইয়েরা লাগিয়েছে, যারা দলকে ভালোবাসে এবং ধারণ করে। আমরা সেখানে ছবি তুলি। শিবিরও চাইলে তাদের লোগো লাগাতে পারে। ক্যাম্পাস মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার জায়গা। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।

অন্যদিকে, হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, হলের টিভি রুমে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের দলীয় লোগো লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। হলের টিভি রুম সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত ও সাধারণ স্থান (কমন স্পেস), কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে আবাসিক হল ও কমন স্পেসকে দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় নেওয়ার যে সংস্কৃতি আমরা দেখেছি, শিক্ষার্থীরা সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারকে অস্বীকার করছি না কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের দলীয় প্রতীক স্থাপন করে হলের কমন স্পেসের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচীন নয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তারা দ্রুত টিভি রুম থেকে ছাত্রদলের লোগো সরিয়ে নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...