জুলাই সনদের সমস্যা বাস্তবায়নে, বিষয়বস্তুতে নয়: শিশির মনির

প্রতিনিধি, বাকৃবি

জুলাই সনদের সমস্যা বাস্তবায়নে, বিষয়বস্তুতে নয়: শিশির মনির

জুলাই সনদের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই চেতনা থেকে রাষ্ট্র সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে পূর্বে যে প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য হয়েছিল, নির্বাচনের পর সরকার সেই কাঠামো পরিবর্তন করেছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট হওয়ার কথা ছিল, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হবে। সেই গণভোটের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে সংসদই পরবর্তী সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ না করায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

শিশির মনির জানান, মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশ্লিষ্ট এবং ৩৭টি সংবিধানের বাইরের বিষয়। সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩০টিতে ঐকমত্য থাকলেও ১৭টিতে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে সংবিধানের বাইরের বিষয়গুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগীয় সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার সংশোধনসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব অধ্যাদেশের অনেকগুলো সংসদে উপস্থাপন না করে বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এর অংশ হিসেবে একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি বা মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এমন বিধান থাকা উচিত। এতে পারিবারিক রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি মত দেন, দলের প্রধান এবং সরকারের প্রধান একই ব্যক্তি হওয়া উচিত নয়, কারণ একজনের পক্ষে একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি, সংসদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হওয়ায় ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক সংস্কৃতি শক্তিশালী না হলে বাইরের শক্তি বা বিভিন্ন গোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাষ্ট্রের ফাঁকফোকর দূর করে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

সবশেষে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজেকে দক্ষ ও সৎ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, কারণ দেশের প্রতিটি স্তরে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের ঘাটতি রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়েদুল ইসলাম, এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব কৃষিবিদ ড. শহীদুল্লাহ শরীফ। ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি, জেলা শিবিরের সভাপতিসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাছির ত্বোহা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...