তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের প্রাসঙ্গিক বিধান যথাযথভাবে কার্যকর এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সভাকক্ষে ডুজা ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন ড. মো. আবুল কালাম সরকার। অনুষ্ঠানে ডর্পের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর জেবা আফরোজা উপস্থাপনাপত্র উপস্থাপন করেন।
উপস্থাপনায় বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপানের বিস্তৃতি তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ব্যবহার করেন। একই সময়ে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষেত্র, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।
এ ছাড়া দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৩ সালে বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সভায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০২৬)-এর বিভিন্ন বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। এর আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এসব স্থানে নির্ধারিত ধূমপান এলাকা রাখার সুযোগ নেই।
আইনের ধারা ৬(খ) অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বৃহৎ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনটির সংশ্লিষ্ট বিধান কার্যকর করতে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইনের বিধান কার্যকর করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় ‘ধূমপান নিষেধ’ চিহ্ন স্থাপন, তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধ এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও এর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়মিত অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণমাধ্যম তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ডুজার পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের আইন ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে অবহিত করা, ক্যাম্পাসের তামাক নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধানী ও ধারাবাহিক প্রতিবেদন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত শিক্ষাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোসাইন মাহি। এ সময় ডুজার সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

