একদিকে সাগরের বিস্তৃত জলরাশি আর অন্যদিকে সবুজ বনানিতে আচ্ছাদিত পাহাড়ের সারি। প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। প্রাচ্যের রানিখ্যাত চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র খুলশীর মনোরম পরিবেশে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।
দক্ষ ও যুগোপযোগী ভেটেরিনারিয়ান তৈরির লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল হাজবেনড্রিকে একীভূত করে স্বতন্ত্র ও সমন্বিত ‘ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন’ ডিগ্রি প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান। শুরুতে এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তী সময়ে কলেজটি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে রূপান্তরিত হয়।
শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা কার্যক্রম এবং দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ভেটেরিনারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জোরদার হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়নে চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, সর্বদলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলক উন্মোচন করেন। পরে ২০০৬ সালের ৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে আইন পাস করার মাধ্যমে সরকার তৎকালীন চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে।
‘শিক্ষা, গবেষণা ও সেবা’—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে চারটি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিভাগ, একটি রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম-বেইসড ক্যাম্পাস, দুটি ইনস্টিটিউট, তিনটি গবেষণাকেন্দ্র এবং একটি গবেষণা তরি রয়েছে।
ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ : ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। এই অনুষদ থেকে পাঁচ বছরমেয়াদি ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) ডিগ্রি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই অনুষদে সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করা হয়। প্রতিটি সেমিস্টার ছয় মাসমেয়াদি, যার মধ্যে আটটি একাডেমিক ও দুটি ইন্টার্নশিপ সেমিস্টার (বহিঃক্যাম্পাস শিক্ষা) রয়েছে। ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে সারা দেশের মধ্যে পাইওনিয়ার হলো চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। ভেটেরিনারি শিক্ষায় বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইন্টার্নশিপ চালু করা হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই অনুষদের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রাণী হাসপাতাল, স্বনামধন্য সরকারি ও বেসরকারি পোলট্রি ও ডেইরি ফার্ম, ফিড মিল, ব্রিডার ও হ্যাচারি ম্যানেজমেন্ট প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে থাকে। বাংলাদেশের একমাত্র ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ অনুষদের শিক্ষার্থীরাই প্রথম থেকে বিদেশে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পেয়ে আসছেন। এ অনুষদের শিক্ষার্থীরা আমেরিকার টাফটস ইউনিভার্সিটি, জাপানের কাগোশিমা ইউনিভার্সিটি এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া কেলানতান ও ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ায় ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
বর্তমানে এই অনুষদে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।
ফুড সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ : ফুড সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে। এই অনুষদ থেকে বর্তমানে চার বছরমেয়াদি বিএসসি (অনার্স) ইন ফুড সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএফএসটি) ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। এখানে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। প্রতিটি সেমিস্টার ছয় মাসমেয়াদি। সাতটি একাডেমিক সেমিস্টার এবং একটি ইন্টার্নশিপ সেমিস্টার (বহিঃক্যাম্পাস শিক্ষা)। দেশের বিভিন্ন খাদ্যশিল্প প্রতিষ্ঠানে প্লেসমেন্টের পাশাপাশি এ অনুষদের শিক্ষার্থীরা ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেঙ্গানুতে (ইউএমটি) এক মাসের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পেয়ে থাকে।
এই অনুষদে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৮০ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ : এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ। বর্তমানে এই অনুষদ থেকে চার বছরমেয়াদি বিএসসি (অনার্স) ইন ফিশারিজ ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। বার্ষিক দুই সেমিস্টার করে চার বছরমেয়াদি বিএসসি (সম্মান) ফিশারিজ কোর্সটি আটটি সেমিস্টারে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রায়োগিক বিষয়াবলিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে এই অনুষদের কারিকুলামে তিন মাসের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা করতে হবে দুই মাস বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং এক মাস ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেঙ্গানুতে (ইউএমটি)।
প্রতি শিক্ষাবর্ষে এই অনুষদে ৬৫ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ : জৈবপ্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি এবং সামাজিক চাহিদা মোকাবিলায় গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ চালু করা হয়। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২৫ শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর মধ্য দিয়ে এই অনুষদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট : মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিনের সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে এখানে চালু করা হয়েছে ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট। এমপিএইচ ডিগ্রি প্রদানের পাশাপাশি এই ইনস্টিটিউট বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন ওয়ান হেলথ পোলট্রি হ্যাচারি, জুনোটিক ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপেয়ার্ডনেস ও হিট প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।
ইনস্টিটিউট অব ফুড সেফটি অ্যান্ড নিউট্রিশন : হাতেকলমে প্রশিক্ষণ এবং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাটহাজারীস্থ রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম-বেইস্ড ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে ইনস্টিটিউট অব ফুড সেফটি অ্যান্ড নিউট্রিশন।
একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে ভেটেরিনারি শিক্ষায় সর্বপ্রথম ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যার শতভাগ শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাচ্ছে।
পোলট্রি রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) : দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার উদ্দেশ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে পোলট্রি রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি)। এখানে রয়েছে বিশ্বমানের এনিম্যাল ডিজিজ ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ফিড অ্যানালাইসিস ও ফুড সেফটি ল্যাব। পিআরটিসির কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে জড়িত সবার জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং গবাদি প্রাণীর রোগনির্ণয়, খাদ্যমান বিশ্লেষণ ও খাদ্যনিরাপত্তা সেবা প্রদান করা।
ঢাকাস্থ টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার : পোষা প্রাণীর উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং হাতেকলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীর পূর্বাচলে স্থাপন করা হয়েছে টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর উন্নত চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হচ্ছে এই হাসপাতাল থেকে।
কক্সবাজারে গবেষণাকেন্দ্র : গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে পর্যটননগরী কক্সবাজারের দরিয়ানগরে স্থাপন করা হয়েছে কোস্টাল বায়োডাইভার্সিটি এবং মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ সেন্টার। সম্ভাবনাময় সুশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে এই গবেষণাকেন্দ্র।
হাটহাজারীতে রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম-বেইস্ড ক্যাম্পাস : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে স্থাপন করা হয়েছে রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম-বেইস্ড ক্যাম্পাস। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়া এখানে চলমান রয়েছে ডেইরি, পোলট্রি, ফুড সেফটি ও নিউট্রিশন, ফিশ কালচার এবং জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম।
ভ্রাম্যমাণ গবেষণা তরি : বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে নির্মাণ করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ গবেষণা তরি। এই তরিতে রয়েছে তিনটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি। এই তরির মাধ্যমে লেকের মাছ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি মাছের অভয়ারণ্য সংরক্ষণেও নানা পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে এটিই প্রথম।
প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা : শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে মূল ক্যাম্পাসে স্থাপিত টিচিং ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ঢাকাস্থ টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার এবং হাটহাজারীস্থ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ছাড়াও স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে প্রাণিসেবা কার্যক্রম।
গবেষণা কার্যক্রম : গবেষণার ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। সিভাসুতে সম্পাদিত গবেষণাকর্মগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য উন্মোচন, মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন, করোনাভাইরাসের জীবনরহস্য উন্মোচন, গরু-ছাগলের মারণব্যাধি প্রতিরোধ পদ্ধতি উদ্ভাবন, এডিস মশা শনাক্তকরণে ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতি উদ্ভাবন, নরম খোলসের কাঁকড়া চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবন, শৌখিন পাখির লিঙ্গ নির্ণয়, উপকূলীয় অঞ্চলে ঝিনুকের চাষ পদ্ধতি, সামুদ্রিক শৈবালের বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন, সামুদ্রিক খাঁচায় বাটা মাছ চাষে সাফল্য, কাঁঠালের চিপস ও খেজুরের বিচি থেকে কফি তৈরি।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সিভাসুর ভূমিকা : করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ ল্যাব স্থাপন, করোনাভাইরাসের জীবনরহস্য উন্মোচন, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে আরটি-পিসিআর মেশিন সরবরাহসহ সিভাসু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকবৃন্দ কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের ৩০০টি নমুনার স্পাইক প্রোটিনের জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ, প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণকারী করোনা-আক্রান্ত ২০০ ব্যক্তির ওপর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর অঞ্চলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা গ্রহণকারী ও টিকা গ্রহণ না করা কোভিড ১৯-আক্রান্ত রোগীদের তুলনামূলক স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন এবং করোনাভাইরাসের সাতটি (তৎসময়ে ‘২০২০’ সর্বোচ্চ) নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে চারটি দেশের নমুনার উপস্থিতি শনাক্তকরণ।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কল্যাবরেশনস : শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। জয়েন্ট কল্যাবরেশনসের অংশ হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা বিদেশে যাচ্ছেন এবং বিদেশি ছাত্র-শিক্ষকরাও সিভাসুতে আসছেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা কাজ পরিচালনা করে আসছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু ইউনিভার্সিটি, পুত্রা ইউনিভার্সিটি, মালায়া ইউনিভার্সিটি ও কেলানতান ইউনিভার্সিটি, ভারতের তামিলনাডু ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সাইন্সেস, যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস ইউনিভার্সিটি, থাইল্যান্ডের খনকিন ইউনিভার্সিটি ও কাসেটসার্ট ইউনিভার্সিটি এবং জাপানের কাগোশিমা ইউনিভার্সিটি ও নিগাতা ইউনিভার্সিটি।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ, খাদ্যবিজ্ঞানী, মৎস্যবিজ্ঞানী এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
এক নজরে সিভাসু
প্রতিষ্ঠানের নাম : চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)
প্রতিষ্ঠানের পূর্বনাম : চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৯৫-১৯৯৬ (কলেজ)
বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর : ৭ আগস্ট ২০০৬
অনুষদ : চারটি (ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ, ফুড সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ, ফিশারিজ অনুষদ এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং)
বিভাগ : ২৩টি
ইনস্টিটিউট : দুটি (ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট অব ফুড সেফটি অ্যান্ড নিউট্রিশন)
গবেষণাকেন্দ্র : চারটি (পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, কোস্টাল বায়োডাইভার্সিটি, মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ সেন্টার, টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার এবং সিভাসু রিসার্চ ভেসেল, কাপ্তাই লেক, রাঙামাটি)
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস : রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম-বেইসড ক্যাম্পাস, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
ভেটেরিনারি হাসপাতাল : দুটি (এসএ কাদেরী টিচিং ভেটেরিনারি হাসপাতাল, মূল ক্যাম্পাস এবং টিচিং ও ট্রেনিং ভেটেরিনারি হাসপাতাল, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম)
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি : ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম), বিএসসি (অনার্স) ইন ফুড সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বিএসসি ইন ফিশারিজ (অনার্স) এবং বিএসসি (অনার্স) ইন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি : এমএস, এমপিএইচ ও পিএইচডি
শিক্ষার্থী : ১৬৭১ (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ১২১১ জন, এমএস ও এমপিএইচ ৪৪৬ জন এবং পিএইচডি ১৪ জন)
আবাসিক হল : চারটি (মূল ক্যাম্পাস দুটি এবং হাটহাজারীতে রিসার্চ অ্যান্ড ফার্ম-বেইসড ক্যাম্পাস দুটি)
শিক্ষক : ১৬৫ জন
কর্মকর্তা : ১০৮ জন
কর্মচারী : ৩১৪ জন
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

