এস. আলমের সহযোগী সালেহকে চবির ডিন নিয়োগ

প্রতিনিধি, চবি

এস. আলমের সহযোগী সালেহকে চবির ডিন নিয়োগ

বিতর্কিত এস. আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের সহযোগী ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুরকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত রোববার নির্বাহী ক্ষমতাবলে তাকে নিয়োগ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি চার মাস আগে নিয়োগ পাওয়া আবদুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুতে মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে আওয়ামীপন্থি হিসেবে উপস্থাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

২০১৭ সালে এস. আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার পর ২০১৯ সালের মে মাসে তিনি ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্যাংকটির নির্বাহী ও নিরীক্ষা কমিটির সদস্যও ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ সালেহ জহুর।

এ ছাড়া, ব্যাংকটির চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে ৯১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমসহ ৫২ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায়ও আসামি করা হয় মোহাম্মদ সালেহ জহুরকে।

চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) দখলে নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীরও সহযোগী ছিলেন মোহাম্মদ সালেহ জহুর। ২০২১ সালের মার্চে নদভীর বিশ্ববিদ্যালয়টির দখলে নেওয়ার পর তিনি ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য এবং পারচেজ অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আইআইইউসির ট্রাস্ট বোর্ডও ভেঙে দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আইআইইউসি টাওয়ার থেকে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আবু রেজা নদভী দম্পতিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলারও আসামি মোহাম্মদ সালেহ জহুর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবার নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচয় দেন মোহাম্মদ সালেহ জহুর। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। তার বর্তমান ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ অবস্থায় থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেতন-ভাতা বিভিন্ন পদ্ধতিতে নেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, আমি তার একাডেমিক এক্সিলেন্সকে প্রাধান্য দিয়েছি। মনে করেছি, তাকে দায়িত্ব দিলে অনুষদটি ভালোভাবে চালাতে পারবেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন