নাটোরে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি

নাটোরে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি
ডিসি আসমা শাহীন বামে। ইউএনও মো. বরকত উল্লাহ ডানে। ছবি: আমার দেশ

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের একদিন পরই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার এবং লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে। এ আকস্মিক প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে বদলির কারণ সম্পর্কে সরকারি আদেশে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ জারি করা হয়। এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। অন্য প্রজ্ঞাপনে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর ১৭ আগস্ট লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলায় মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লালপুর থানার মামলায় বিএনপির ১৮ জন নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ পাপ্পুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে।

বাগাতিপাড়া থানার মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন মুন্নাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পরদিনই জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে বদলি করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে বদলির সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি আদেশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবি জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণেই যদি ডিসি ও ইউএনওকে বদলি করা হয়ে থাকে, তবে তা আইনের শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। এ ধরনের ঘটনা মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলা-ভাঙচুরের প্রকৃত ঘটনা এবং দায়ীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন