যোগদানের ২ দিন আগে সেই পৌর সিইও বদলির আদেশ বাতিল

যোগদানের ২ দিন আগে সেই পৌর সিইও বদলির আদেশ বাতিল
সীতাকুণ্ড পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ড পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামের বদলি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বার্থে গত ২০ আগস্ট তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্ধারিত সময়ের দুইদিন আগে সেই আদেশ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রায় এক যুগ ধরে পৌর ভবনের দাপ্তরিক কক্ষে বসবাস, বদলির আদেশের পরও বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে অবস্থান এবং সম্প্রতি মাত্র দুই মাসে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল ৪ লাখ টাকা ওঠার ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্তে পৌরসভাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে।

গত ২০ আগস্ট জনস্বার্থে সিইও নজরুল ইসলামকে বদলি করা হয়। নতুন কর্মস্থলে তার যোগদানের শেষ সময় আগামী ১ সেপ্টেম্বর। যোগদানের মাত্র দুইদিন আগে ৩০ আগস্ট সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার ২০ আগস্টের ৭০৩ নম্বর স্মারকে নজরুল ইসলামকে নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভায় বদলি করে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে ২ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করার কথাও উল্লেখ ছিল। কিন্তু ৩০ আগস্ট ৭০৩ নম্বর স্মারকে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে পূর্বের বদলি বাতিল করা হয়। ফলে শিবপুরে যোগ না দিয়ে সীতাকুণ্ডেই বহাল থাকছেন তিনি।

Untitled-1-Recovered

বদলি-বাতিলের কারণ জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, পৌর নির্বাহী নজরুল ইসলামের বদলি ও বাতিল সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসনের মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক গোলাম মাঈন উদ্দিন হাসান আমার দেশকে বলেন, মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করলে বদলি করতে পারে, আবার বদলি বাতিলও করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।

চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকার শাখার পরিচালক (ডিএলজি) মনোয়ারা বেগম আমার দেশকে বলেন, সীতাকুণ্ড পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করা হয়েছিল, পরে আবার সেই আদেশ বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো, তা মন্ত্রণালয়ই ভালো বলতে পারবে। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

এদিকে পৌরসভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সীতাকুণ্ড পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দাপ্তরিক ক্ষমতার টানাপোড়েন চলছে। প্রকৌশল, নকশা ও প্রশাসন শাখাকে ঘিরে বিরোধ চলে আসছে। এমনকি সিইওর নির্দেশ সাধারণ একজন পিয়নও মানছেন না।

সম্প্রতি ছুটিকে কেন্দ্র করে সিইও ও এক অফিস সহকারীর মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। সিইওর হাত থেকে নকশাকারক হাজিরা খাতা কেড়ে নিয়েছে। তাছাড়াও সিইও নজরুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে পৌরসভার দাপ্তরিক কক্ষ আবাসিকে ব্যবহার করে আসছেন। এর ফলে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বাবদ অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অন্যদিকে প্রশাসনিক অস্থিরতার প্রভাব নাগরিক সেবায় পড়ছে বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। প্রথম শ্রেণির সীতাকুণ্ড পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙাচোরা সড়ক, ড্রেনেজ সংকট ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ বাড়ছে। ভোলাগির আশ্রম, চৌধুরীপাড়া, আমিরাবাদ ও নামার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নাগরিকদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। নাগরিক সনদ পেতেও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করছেন সেবাপ্রার্থীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন