ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য চত্বরে টানা ৫৮ ঘণ্টা ধরে অনশনরত দুই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাদের দেখতে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায় শিক্ষার্থীরা সুস্থ থাকুক এবং কোনোভাবেই তাদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ না হোক।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে বাসায় ফিরে যাবে। একইসঙ্গে তাদের দাবির বিষয়টি সরকারের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য জানান, অনশনরতদের শারীরিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে আগের রাতেও চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা গ্রহণে অনাগ্রহ দেখান বলে জানা যায়।
এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড সাইমা হক বিদিশা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের জানান, অনশনরত শিক্ষার্থী সাকিবের মা সেখানে এসে ছেলের দুর্বল শারীরিক অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে তিনি অনশন ভাঙার জন্য চাপ দেননি।
অনশনস্থলে শহিদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা এসে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে আহত ব্যক্তিরাও সেখানে এসে সংহতি জানাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানা অনশনের কারণে শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও তাদের মানসিক দৃঢ়তা এখনো অটুট রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে দৃশ্যমান কোনো সাড়া না পাওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

