দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, আগুন দেওয়া ও বোমাবাজির ঘটনাগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছায়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা।

সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যারা সন্ত্রাসী, যারা আগুন লাগাচ্ছে, যারা বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু।” জাতীয় স্বার্থ, জনগণ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আগুন দেওয়া ও বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো পরিকল্পিত দাবি করে রিজভী বলেন, ‘‘আগুন লাগিয়ে বাঁশ পোড়ানো হচ্ছে, সিএনজি পোড়ানো হচ্ছে; এটা কিন্তু খুব পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে।” পুলিশের হাতে আটক কয়েকজনের বক্তব্যের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বর থেকে তাদের এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেওয়া হতো।

রিজভীর দাবি, নির্দেশনায় নির্দিষ্ট স্থানে বোমা পাওয়ার কথা জানিয়ে সেটি বিস্ফোরণের পর ছবি তুলে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠাতে বলা হতো। এর বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার কথাও বলা হতো বলে দাবি করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট টেলিফোন নম্বরটি একটি পার্শ্ববর্তী দেশের বলে দাবি করে রিজভী প্রশ্ন তোলেন, “টেলিফোন নম্বরটি কার? কে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিচ্ছেন?”

এসব ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। একই সঙ্গে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণকে কষ্ট দিতে চায় না। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপের কারণে অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, “জাতীয় স্বার্থের সরকার তারেক রহমানের সরকার, জনগণের পক্ষের সরকার তারেক রহমানের সরকার, দেশের স্বাধীনতার পক্ষের সরকার তারেক রহমানের সরকার।” তিনি বলেন, রাজপথ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক মালিকানাধীন নয়। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো আস্তানা রাখতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন কৌশলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাকিব বলেন, “যারা কালচারের ফ্যাসিস্ট, যারা ইনিয়ে-বিনিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাংলাদেশের পুনর্বাসন করতে চায়, আমরা তাদেরকে সরাসরি প্রতিরোধ করব। দেশে ফ্যাসিবাদীদের কোনো আস্তানা গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না।”

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যেও বক্তব্য দেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, কোনো দল যেন ১৯৯৬ ও ১৯৮৬ সালের মতো রাজনৈতিক ভূমিকা পালন না করে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সংশোধনের প্রস্তাব করছি। আপনারা ১৯৯৬ এবং ১৯৮৬ সালের ভূমিকা পালন করছেন। ধিক্কার জানাচ্ছি। সংশোধন হবেন, তা না হলে ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”

এর আগে বিকেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ এলাকায় পৌঁছান। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানীসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন