ছাত্রদলের কর্মসূচিকে ঢাবি প্রশাসনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ, সমালোচনার মুখে জনসংযোগ দপ্তর

ছাত্রদলের কর্মসূচিকে ঢাবি প্রশাসনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ, সমালোচনার মুখে জনসংযোগ দপ্তর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জনসংযোগ দপ্তরের সাপ্তাহিক কার্যক্রমসংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি কর্মসূচিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সম্পাদিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ই-মেইলেও পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, উদ্যোগ ও কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্যসংবলিত এ ধরনের বিবৃতি জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত বিবৃতির ২৬ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়, “ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষের নিকট একটি ফগার মেশিন হস্তান্তর করেন।” প্রশাসনের সাপ্তাহিক কার্যক্রমের তালিকায় ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত একটি কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করায় বিষয়টি নিয়ে ছাত্ররাজনীতি অঙ্গনে প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মূলত গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহযোগিতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল কর্তৃপক্ষের কাছে দুটি মশক-নিরোধক ফগার মেশিন হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ব্যবহারের জন্য দুটি ফগার মেশিন উপহার দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, কর্মসূচিটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে হয়েছে বিধায় আমরা সাপ্তাহিক হালনাগাদ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছি। এতে যদি কারো এত জ্বালা পড়ে থাকে, তাহলে আমাদের কী করার আছে।

সমালোচনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “যদি ছাত্রদলের নাম উল্লেখ করায় সমালোচনা হয়ে থাকে, তাহলে সামনে আমরা সতর্ক থাকব।”

বিষয়টির সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের বিবৃতিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের আয়োজিত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হওয়া তাদের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি স্পষ্ট পক্ষপাতী আচরণ। কোনো ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ উল্লেখ করে বিবৃতি দেওয়া নজিরবিহীন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন