যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কিউবার পাশে থাকব, বলল চীন

যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কিউবার পাশে থাকব, বলল চীন

কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের নানা বিকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন খতিয়ে দেখছে—এমন সংবাদের পর ওয়াশিংটনকে সামরিক হুমকি ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন।

শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, বেইজিং পুরো বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। মাও নিং আরও বলেন, ‘কিউবায় বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীন দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে বেইজিং।’

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনের পরই মূলত চীনের এই বক্তব্য এলো। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা কিউবায় সামরিক অভিযানের কয়েকটি রূপরেখা খতিয়ে দেখেছেন। যার মধ্যে ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনার মাধ্যমে বিমান হামলার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।

খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান, সেনার প্রয়োজনীয়তা, রসদ সরবরাহ ও এর ঝুঁকি মূল্যায়নে গত জুনের শেষের দিকে প্রাথমিক একটি বৈঠক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ ধরনের আক্রমণের কোনো অনুমোদন দেননি এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

সামরিক পদক্ষেপের খসড়া তৈরি করছে ওয়াশিংটন

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজর ও রসদ ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও হাভানার ওপর ওয়াশিংটন যখন চাপ বাড়াচ্ছিল, তখনই এই খসড়া অভিযানের বিষয়টি সামনে আসে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবায় যুদ্ধবিমান, গোয়েন্দা নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করা বেশ কঠিন। পেন্টাগন অবশ্য কাল্পনিক বা সম্ভাব্য কোনো অভিযান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস আলাদা এক প্রতিবেদনে জানায়, এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি মার্কিন খসড়ায় রাখা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো সময় তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

তবে শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামরিক স্তরে এভাবে স্পষ্ট অভিযানের খসড়া তৈরি করা মূল উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের পর কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বলে ট্রাম্প এর আগেও বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

গত মার্চ মাসে তিনি সরাসরি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা।’ এমনকি দেশটি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে পরে আবার বলেন, ‘তা হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে।’ পরবর্তীতে কিউবার শীর্ষ নেতৃত্বকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে দ্বীপটির কাছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরামর্শও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, গত জুনে গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি পরিদর্শনের সময় মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ হাভানাকে কড়া সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, মার্কিন মূল ভূখণ্ড বা ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন কোনো অস্ত্র যেন কিউবা সংগ্রহ না করে। তেমন কিছু করলে এমন সংঘাতের সৃষ্টি হবে, যা সামলানোর ক্ষমতা কিউবার নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন