ভাদ্র-অশ্বিনজুড়ে শরতের রাজত্ব। শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর প্রকৃতির বুকে শুভ্র কাশফুলের দোলা। ঝোপঝাড়, নদীর তীর, রাস্তার পাশসহ আনাচেকানাচে ফুটে থাকা কাশফুল জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। আর এই শুভ্রতার মুগ্ধতায় মেতে উঠেছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা।
চায়ের রাজ্যখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সবুজ চা-বাগানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে বিশাল কাশবন।
শহর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন এলাকায় ছড়ার পাড় ঘেঁষে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফুটেছে সাদা কাশফুল। বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলে পুরো এলাকা যেন সেজেছে অপরূপ সাজে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষার্থীদের দল বেঁধে আসতে দেখা গেছে। কেউ কাশবনের ভেতর ঘুরছেন, কেউ তুলছেন ছবি। আবার কেউ মুক্ত বাতাসে ছড়ার বালুচরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়েও অনেককে কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়।
কাশফুল চোখ ও মন দুটোই ভরিয়ে দেয়
-151b67.jpg)
কাশবনে ঘুরতে আসা শিউলি, জলি, নোহাশ, রায়হান, মাসুম, কাজিম ও মুস্তাকিম বলেন, চা-বাগানের ফাঁকে ছড়ার পাশে দিগন্তজোড়া কাশফুলের দৃশ্য অন্যরকম সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল চোখ ও মন দুটোই ভরিয়ে দেয়। শরৎকালের সৌন্দর্য উপভোগ করতেই তারা এখানে এসেছেন।
ঢাকা থেকে আসা জাকিয়া তাসনিম বলেন, ঋতু পরিক্রমায় বাংলার প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। এ সময় রাশি রাশি কাশফুল তার অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ায়। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতেই শ্রীমঙ্গলে আসা।
শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আফসার মিয়া ও সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড়জুড়ে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
স্থানীয় ট্যুর গাইড শ্যামল দেব বর্মা বলেন, দিগন্তজোড়া কাশফুলের মনোরম দৃশ্য যে কাউকে আন্দোলিত করে। শরৎ ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কাশফুল এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণেও ভূমিকা রাখছে।
শহরের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল বলেন, শ্রীমঙ্গলের এই কাশবন প্রতি বছর শরৎকালে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ঝকঝকে আকাশের নিচে বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কাশফুল এক ধরনের বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum। সাধারণত এটি প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। নদী ও ছড়ার তীরে ফুটে থাকা শ্বেতশুভ্র কাশবন প্রকৃতিকে করে তোলে আরও নান্দনিক।
স্থানীয়রা জানান, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কাশফুল ফুটতে শুরু করে এবং সেপ্টেম্বরজুড়ে এর সৌন্দর্য থাকে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে।
তবে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে অনেকেই অসচেতনভাবে কাশফুল ছিঁড়ে ফেলছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফুল না ছিঁড়ে কেবল সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

