শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম হালনাগাদ হবে: ইউজিসি

শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম হালনাগাদ হবে: ইউজিসি
ছবি: সংগৃহীত

শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

তিনি বলেন, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম হালনাগাদ, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও প্লেসমেন্টের সুযোগ তৈরি এবং শিল্প খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের শ্রেণিকক্ষে যুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, ইনোভেশন, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সংযোগ শক্তিশালীকরণে স্থানীয় অংশীজন ও শিল্পমালিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মামুন বলেন, একাডেমিয়ার সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে চাকরির বাজারে কী ধরনের দক্ষ জনবল প্রয়োজন, তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানতে পারবে। সেই চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম তৈরি ও হালনাগাদ করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পড়াশোনার সময় ইন্টার্নশিপ ও প্লেসমেন্টের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এতে শিক্ষার্থীরা পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন এবং চাকরির বাজারের উপযোগী দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে উঠবেন।

শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রিসোর্স পারসন হিসেবে শ্রেণিকক্ষে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা শিল্পের কাজ, প্রযুক্তি ও বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাবেন।

গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পে রূপ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানান অধ্যাপক মামুন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং সেগুলো শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী করতে সরকার কাজ করছে। গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন শিল্পে রূপ নিলে নতুন কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ নিয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ও এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে বৈষম্য কমানো, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল খাতের বিকাশে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ এবং ১০ লাখ টাকার বৃত্তি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ইউজিসি। এ ছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি জেলায় এমপ্লয়মেন্ট সেন্টার ও আইসিটি স্মার্ট হাব গড়ে তোলা এবং নারী উদ্যোক্তাদের কর-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবহান।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। স্থানীয় ১০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে অনুষ্ঠানে চিত্র প্রদর্শনী ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন