বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গবেষণা প্রকাশনা, এইচ-ইনডেক্স ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রভাবের ভিত্তিতে সেরা গবেষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ‘গ্লোবাল রিসার্চ ইমপ্যাক্ট রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’-এর পাশাপাশি গবেষণায় নেতৃত্ব, কৃষিতে উদ্ভাবন ও কৃষি সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিও প্রদান করা হয়।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালা ২০২৪-২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গত তিন বছরের প্রকাশনা সংখ্যা, গুগল স্কলার ও রিসার্চগেটের এইচ-ইনডেক্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা ২৫ জন গবেষকের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পাঁচজনকে ‘গ্লোবাল রিসার্চ ইমপ্যাক্ট রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অনুষদভিত্তিক সিনিয়র ও জুনিয়র ক্যাটাগরিতে আরও ১২ জন গবেষক একই স্বীকৃতি পান। এবার প্রথমবারের মতো গবেষণায় নেতৃত্ব, বহিঃসংস্থার গবেষণা অনুদান সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাউ রিসার্চ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অর্জন করেন অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান। গবেষকের পাশাপাশি কৃষি সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. আমান উল্লাহকে ‘কৃষি সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ছয়জন কৃষককে ‘প্রফেসর ড. আশরাফ আলী খান স্মৃতি কৃষি পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অবদানের জন্য যশোরের নজরুল ইসলাম, ৫৪০ প্রজাতির ধানের বীজ সংগ্রহশালা গড়ে তোলার জন্য নেত্রকোনার মো. সায়েদ আহমেদ খান, সমন্বিত কৃষি খামার গঠন ও প্রসারে অবদানের জন্য ফুলবাড়িয়ার মোছা. নার্গিস পারভীন সম্মাননা পান। এ ছাড়া কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী ‘মিনার ফিড মিল’ প্রতিষ্ঠার জন্য ত্রিশালের মোহাম্মদ ইসরাফিল, আধুনিক মৎস্য খামার গড়ে তোলার জন্য ভালুকার মো. সাইফুল ইসলাম এবং কেঁচো কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিদিন ১০০ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন ও ৫০টি পরিবারের গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগের জন্য ফরিদপুরের মোছা. তানিয়া পারভীনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. জিয়াকুন সি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাউরেসের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান। কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূ্ঁইয়া বলেন, নতুন প্রবর্তিত ‘সেরা ফান্ড হান্টার গবেষক’ এবং পুরষ্কারপ্রাপ্ত অন্যান্য গবেষকদের সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরো অনুপ্রাণিত করবে। বাকৃবির রিসার্চ ওয়ার্কশপ একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া বাউরেস বর্তমানে দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও কার্যকর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর স্বচ্ছতা ও দক্ষতার মডেল এখন দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুসরণ করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ছয়জন উদ্ভাবনী কৃষককে সম্মানিত করার মাধ্যমে বাউরেস কৃষি উদ্যোক্তাদেরকে আরও অনুপ্রাণিত করে চলেছে। গবেষণা চলবে তবে সেটার জন্য শিক্ষা কার্যক্রমকে অবহেলা করা যাবে না। ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় মোট ২১টি প্যারালাল টেকনিক্যাল সেশন এবং অনুষদভিত্তিক ছয়টি পোস্টার সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৫৩৯টি গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করা হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি টেকনিক্যাল সেশন থেকে একজন করে মোট ২১ জন সেরা উপস্থাপককে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি পোস্টার সেশন থেকে প্রতি অনুষদে তিনজন করে মোট ১৮ জনকে সেরা পোস্টার উপস্থাপক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

