ড্যান্ডিমাদকে আসক্ত ছিন্নমূলদের নিয়ে উদ্বেগ

দুই বছর নিখোঁজের পর ঈশ্বরদীতে কিশোরের লাশ উদ্ধার


দুই বছর নিখোঁজের পর ঈশ্বরদীতে কিশোরের লাশ উদ্ধার
ইনসেটে রুহুল আমিন। ছবি: আমার দেশ

দীর্ঘ দুই বছর নিখোঁজ থাকার পর পাবনার ঈশ্বরদীতে রুহুল আমিন (১৫) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অসুস্থ অবস্থায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর দুই দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নিহত রুহুল আমিন পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শুক্রবার রাতে ফেসবুকে অজ্ঞাতপরিচয় লাশের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সজীব হোসেন জানান, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে অভিমান করে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রুহুল। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে তাকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে জানতে পারেন, সে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে রয়েছে। পরে স্টেশনে থাকা মাদকাসক্ত কিশোরদের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

কিছুদিন স্বাভাবিক থাকার পর আবারও পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রুহুল। এরপর ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় ছিন্নমূল ও মাদকাসক্ত কিশোরদের সঙ্গে তার চলাফেরা শুরু হয়। পরিবারের দাবি, ওই সময় সে ড্যান্ডিসহ বিভিন্ন নেশায় জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও তার আর সন্ধান পায়নি পরিবার।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় এক ব্যক্তি রুহুল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। তখন পর্যন্ত তার পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় এক ব্যক্তি কিশোরটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হলে হাসপাতাল থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

তিনি বলেন, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। পরে ফেসবুকে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের এক স্বজন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদীতে ছিন্নমূল শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় থানার পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এসব শিশুর বয়স সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু জটিলতা রয়েছে। তারপরও তাদের জন্য কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেখা হচ্ছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন