বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর গবেষণার প্রশংসায় বিল গেটস

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর গবেষণার প্রশংসায় বিল গেটস

মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা নিয়ে গবেষণার জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরীর প্রশংসা করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি বলেছেন, ফেরদৌসীর গবেষণা কলেরার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ফেরদৌসী কাদরী ও তার গবেষক দলের কাজ তুলে ধরেন বিল গেটস। টিকাদানের মাধ্যমে কলেরা থেকে মানুষের সুরক্ষা বাড়াতে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কলেরা একটি তীব্র ডায়রিয়াজনিত রোগ। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে মূলত এ রোগের জীবাণু ছড়ায়। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে গুরুতর অবস্থায় কলেরায় আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নিরাপদ পানির সীমিত প্রাপ্যতা ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনব্যবস্থার কারণে কলেরার প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘ মেয়াদে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি হলেও এতে বিপুল সময় ও অর্থের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি উপায় হলো মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা।

বিল গেটস বলেন, মুখে খাওয়ার টিকা তুলনামূলক সহজে প্রয়োগ করা যায় এবং কলেরায় মৃত্যু প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টায় ফিরদৌসী কাদরী ও তার সহকর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ভিডিওতে ফিরদৌসী কাদরীকেও বাংলাদেশের জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এ পরিকল্পনায় দেশের কোন এলাকায় এবং কখন টিকা দেওয়া প্রয়োজন, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

ফিরদৌসী জানান, জাতীয় পরিকল্পনা ও এর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১০ কোটি ডোজ কলেরা টিকার প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়তে দেখা যায়, যার মধ্যে শীতকালও রয়েছে। বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের সময় সংক্রমণের হার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়মতো পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকার গবেষণা এবং এর প্রাপ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে আসছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এ কাজে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ—আইসিডিডিআর,বি এবং ফিরদৌসী কাদরীর সঙ্গে কাজ করেছে।

ফিরদৌসী কাদরী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। তিনি আইসিডিডিআর, বির মিউকোসাল ইমিউনোলজি অ্যান্ড ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগেও বিল গেটস তার ব্যক্তিগত ব্লগ ও ওয়েবসাইট ‘গেটসনোটস’-এ ফিরদৌসী কাদরীর গবেষণা এবং অবদানের প্রশংসা করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন