খল-অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বোনরা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির হক যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দিয়ে ডিপজল একাই বিগত ৪০ বছর ধরে পৈতৃক ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ একাই ভোগ করছেন।
এমন অভিযোগের পর সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ডিপজল এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বোনদের অভিযোগকে ‘মিথ্যা অপবাদ’ বলে দাবি করেন জনপ্রিয় এই খল-অভিনেতা।
ডিপজলের বড় বোন নূরজাহান বেগম লায়লা গণমাধ্যমকে জানান, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর প্রায় ৪০ বছর পার হলেও এখনো তারা নিজেদের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ পাননি। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তির বেশির ভাগই ভাইয়েরা ভোগ করছেন।
তিনি বলেন, আশ্বাসের পর আশ্বাস পাওয়া গেলেও কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া পরিবারের ছোট ভাই ও বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে ওঠে।
আরেক বোন পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, আমাদের টোটাল সম্পত্তি মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা। এটা সে একাই ভোগ করছে। বাকি দুই ভাইকে যা দিয়েছে সেটা নাম মাত্র। যেখানে যা ভাড়া ওঠে সব টাকা সে একাই নিচ্ছে। মা মারা গেছে ১১ বছর হলো। ওই বাসায় গেটটা আমাদের জন্য বন্ধ। কেন, আমরা কি এমন অপরাধ করেছি? আমরা তো তার সম্পত্তি চাই না। আমরা আমাদের অংশেরটুকু বুঝে পেতে চাই। তার সঙ্গে আমরা ঝগড়ায় পারবো না বলে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
বোনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ডিপজল বলেন, সম্প্রতি আমার কিছু বোন আমাকে নিয়ে যে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে, তার বিষয়ে আমি আপনাদের সামনে কিছু বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই। এই বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য কাউকে অসম্মান করা নয়, বরং আমার প্রতি ছড়ানো ভুল ধারণা ও মিথ্যা অপবাদের বিষয়ে সত্য তুলে ধরা। মামলার আইনি জবাব আমি আইন অনুযায়ী দেব, ইনশাল্লাহ।
তিনি যোগ করেন, আমার বোনদের আমি সবসময় সম্মান, ভালোবাসা ও সাধ্যমতো সহযোগিতা করে এসেছি, এ কথা আমার এলাকার মানুষ ও আশেপাশের পরিচিত সবাই জানেন। একজন বোন ক্যামেরার সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, তার অসুস্থ সন্তানের খোঁজ কেউ নেয়নি অথচ তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য আল্লাহর দেওয়া সামর্থ্য অনুযায়ী, আমি আমার পক্ষ থেকে একটা বড়ো অঙ্কের সহায়তা করেছি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা ভারতে পর্যন্ত করেছি। আজ ক্যামেরার সামনে তিনি যেন সব ভুলে গেলেন!
এসময় ডিপজল বলেন, পর্দায় অভিনয় আমি করি, বাস্তব জীবনে নয়। যদি জানতাম কোনোদিন বাস্তব জীবনে এমন অভিনয়ের সম্মুখীন হতে হবে, তাহলে হয়ত প্রতিটি কাজের প্রমাণ রেখে দিতাম।
এক বোনের অভিযোগের প্রসঙ্গে প্রযোজক ও অভিনেতা বলেন, আরেক বোন বলেছেন, ১১ বছর ধরে নাকি আমার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ মাত্র দুই মাস আগেই তাকে ও তার সন্তানকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ সাহায্য করা হয়েছে। আমার সাধ্যের মধ্যে সবসময়ই আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এত কিছু লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।
ডিপজল আরও বলেন, ৩৫ বছর পর আজ হঠাৎ তারা কেন এবং কার প্ররোচনায় এমন মিথ্যা বলছে— এ প্রশ্ন আমারও আছে। যদি সত্যিই কোনো দাবি থাকত, ভালোবাসার সম্পর্ক ধরে, সরাসরি বললেই আমি তাদের ২/৩ গুণ বেশি দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম। আমি ডিপজল— আমার সাধ্যের মধ্যে কাউকে ফিরিয়ে দেব না আল্লাহর রহমতে, আর তারা তো আমার আপন ভাই-বোন। যে বোন পর্দা করেন বলে প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমি আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করেছি, সেই বোনের মুখেই আজ এমন কথা শুনতে হলো— এটা সত্যিই কষ্টের।
সবশেষ এই অভিনেতা বলেন, যদি আইন অনুযায়ী তারা মালিক হোন, তবে তাদের প্রাপ্য অংশ অবশ্যই তারা পাবেন। আমার প্রিয় বোনদের বলছি, তোমরা জানো আমি খুব অসুস্থ। জীবনে যতটুকু পেরেছি আমি তোমাদের জন্য করেছি। আল্লাহর রহমতে যদি আল্লাহ আরও সময় দিতেন, হয়ত আরও করতাম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন আচরণ সত্যিই কষ্টদায়ক। সম্মান দেওয়া ও সম্মান রক্ষা করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহই সবকিছুর উত্তম বিচারক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

