আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শিল্পী মণি মাঝির একক প্রদর্শনী ‘নন-ডুয়ালিটি’ শুরু

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শিল্পী মণি মাঝির একক প্রদর্শনী ‘নন-ডুয়ালিটি’ শুরু

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে শিল্পী মণি মাঝির একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘নন-ডুয়ালিটি (অদ্বৈত)’। ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শনীটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আগামী ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত থাকবে।

সুন্দরবনের নদীবিধৌত ভূপ্রকৃতি, লোকসংস্কৃতি এবং মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার গভীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এই প্রদর্শনী। সুন্দরবনের নদী, বন, জোয়ার-ভাটা, মাটির লবণাক্ততা, প্রাণী এবং ঐতিহ্যবাহী পৌরাণিক আখ্যানের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য রূপ এখানে তুলে ধরেছেন শিল্পী।

বিজ্ঞাপন

প্রদর্শনীতে অদ্বৈত ধারণার আলোকে দেখানো হয়েছে কীভাবে ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক দর্শন গড়ে উঠেছে সুন্দরবন অঞ্চলে। সেখানে বনদুর্গা ও বনবিবিকে যেমন একই মায়ের রূপ হিসেবে দেখা হয়, তেমনি পবন ঠাকুর ও পবন পিরও স্থান পেয়েছেন একই লোকবিশ্বাসের পরিমণ্ডলে। আতিথেয়তার প্রতীক নিচু কাঠের ‘পিঁড়ি’ থেকে শুরু করে ঝড়-বৃষ্টির সময় পবনকে শিন্নি-পায়েস নিবেদনের লোকাচারগুলোর মাধ্যমে উঠে এসেছে প্রাকৃতিক শক্তির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও নির্ভরতার চিত্র।

তবে জলবায়ু সংকট, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চাপে রূপসী সুন্দরবনের এই পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক বাস্তুতন্ত্র আজ বিপন্ন। নদী গতিপথ হারাচ্ছে, লবণাক্ততা বাড়ছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের স্মৃতি ও পরিচয় ক্ষয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় শিল্পী মণি মাঝি প্রদর্শনীতে এক নতুন বার্তা এনেছেন—আজ আমরা সবাই যেন ‘সবুজের শরণার্থী’। নদী, বীজ, বৃক্ষ ও বন্যপ্রাণী সবাই আজ নিজ বাসভূম থেকে বাস্তুচ্যুত। মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কী হারিয়ে যায় এবং কীভাবে তা পুনরুদ্ধার সম্ভব—সেই গভীর প্রশ্নই শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।

শিল্পী মণি মাঝির ‘নন-ডুয়ালিটি’ প্রদর্শনীটি দর্শকদের মানুষ, প্রকৃতি ও জীবজগতের পারস্পরিক সম্পর্ককে সমকালীন সংকট ও ভাবনার আলোকেও নতুন করে অনুধাবন করার আহ্বান জানায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন