আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় শুরু হলো ‘আনলার্নিং দ্য বুক’ শীর্ষক দলীয় শিল্প প্রদর্শনী। ২৭ জন বহুমাধ্যমিক বাংলাদেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিচালিত একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে, এই প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল ও বিভিন্ন উপাদানকে কেন্দ্র করে গল্প বলার নতুন ভাষায় ‘বই’-এর প্রচলিত ধারণাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন ফারিহা জেবা এবং সাদিয়া মিজান।
রবিবার, ১০ মার্চ বিকালে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের চার্জ দ’আফেয়ার্স মি. ফ্রেডেরিক ইনজা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা এর পরিচালক মি. ফ্রাঁসোয়া শঁম্ভো, হারস্টোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
উদ্বোধনের পর অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও আমন্ত্রিত বক্তাদের উপস্থিতিতে একটি সংলাপভিত্তিক বই আলোচনা সেশন এবং ইফতার আয়োজন করা হয়। এ সময় দর্শনার্থীরা প্রদর্শিত পরীক্ষামূলক বইগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি, সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে একটি আকর্ষণীয় ট্যারো রিডিং সেশনে অংশগ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধনের সুযোগ ছিল।
‘আনলার্নিং দ্যা বুক’ একটি বহুমাত্রিক প্রদর্শনী, যেখানে বইয়ের প্রচলিত কাগজভিত্তিক ধারণাকে নতুনভাবে কল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল কিউরেটরদের তত্তাবধানে পিয়ার লার্নিং কর্মশালা ও ব্রেইনস্টর্মিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে শিল্পীরা বইয়ের তথাকথিত গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বইয়ের প্রাচীন বস্তুগত ইতিহাসের খোঁজে তালপাতার পাণ্ডুলিপি, পুঁথি, টেক্সটাইল আর্কাইভ এবং মৌখিক ও পারফরমেটিভ গল্প বলার ধারাকে পুনরায় অন্বেষণ করেন।
সম্মিলিত কল্পনা ও কিউরেটোরিয়াল দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এই প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে কাপড় হয়ে উঠেছে কাঠামো, সুতো হয়েছে লেখনী, আর সেলাই হয়েছে বর্ণনার মাধ্যম। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা তাদের কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বাস্তবতার গল্পগুলোকে নতুন ধরনের পরীক্ষামূলক বইয়ের আকারে উপস্থাপন করেছেন।
এটি একটি প্রচলিত প্রদর্শনী নয়; বরং আয়োজন করা হয়েছে একটি একান্ত গল্প বলার ঘরে, যেখানে দর্শনার্থীরা এসে বসে সময় নিয়ে এই অপ্রচলিত বইগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন এবং টেক্সটাইল ও উপাদানভিত্তিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তৈরি গল্পগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে এমন কিছু জায়গাও থাকবে যেখানে দর্শনার্থীরা তাদের নিজস্ব গল্প ও স্মৃতি আদান-প্রদান করতে পারবেন এবং বিভিন্ন কর্মশালা ও আলোচনার মাধ্যমে শেখা জিনিসের ঊর্ধ্বে নতুন করে শেখার অভিজ্ঞতায় অংশ নিতে পারবেন।
প্রদর্শনী চলাকালীন সময়ে আয়োজিত হবে আপসাইক্লিং আইডিয়া, ইন্টারঅ্যাকটিভ পেইন্টিং, ট্যারো রিডিং সেশন এবং গল্প পাঠের মতো বিভিন্ন কর্মশালা ও অনুষ্ঠান, যা দর্শকদের বইয়ের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবার এই চলমান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানায়।
অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন-- আবরার সাদমান, আহসানা আঙ্গোনা, আলিয়া কামাল, এশা আহমেদ, ফাইজা ফাইরুজ, ফারাহ নাজ মুন, ফারহানা ফেরদৌসি, ফৌজিয়া মাহিন চৌধুরী, হৃদিতা আনিশা, জয়তু চাকমা, জিন্নাতুন জান্নাত, কাজমিন সামিয়া, লেখ নেছা খাতুন, মাহাদি মাসুদ, মাহমুদা সিদ্দিকা, মারজিয়া বিনতে রহমান, নাজম আনোয়ার, নাজমুল হোসেন নয়ন, নদী জুডিথ গোমেজ, নুর এ আলা সিদ্দিক, পাপিয়া সারোয়ার, রাফিয়া মাহজাবীন, ঋতুপর্ণা সাহা, রোকেয়া সুলতানা, তাহমিনা হাফিজ লিসা, তৌফিকুল ইসলাম এবং ভেনেসা কায়সার।
প্রদর্শনীটি সবার জন্য ২০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত খোলা থাকবে, প্রতি সপ্তাহে সোমবার থেকে শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

