জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব-২০২৬’। নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনা শাখার শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। উৎসবের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াতকে ‘বিশেষ নাট্যজন সম্মাননা’ দেওয়া হয়। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপাচার্য তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল বলেন, ‘আবুল হায়াত আমাদের দেশের অভিনয়ের একজন মহান শিল্পী। এত বড় শিল্পী হওয়া সহজ নয়। এর জন্য সাধনা প্রয়োজন, আধ্যাত্মিকতা প্রয়োজন। আবুল হায়াত ভাই সেই সাধনা অর্জন করেছেন। আপনারা যারা টেলিভিশনে তার অভিনয় দেখেন আর আমরা যারা নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক আছি, আমাদের আবুল হায়াতকে নিয়ে গবেষণা করা উচিত।’
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আবুল হায়াত বলেন, ‘আজকের এই সম্মাননা আমার কাছে শুধু একটি সম্মাননা নয়, সবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। শিল্প মানেই শিক্ষা। আমি এখনো শিখি। ত্রিশালের মাটিতে দাঁড়িয়ে বারবার মনে পড়ছে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা। তিনি ছিলেন বিদ্রোহী কবি। আমি নাটককে ভালোবাসি। ১০ বছর বয়সে নাটকে অভিনয় শুরু করেছিলাম, যা এখন আমার রক্তে মিশে গেছে। হয়তো পরিবার থেকেই এই ভালোবাসা পেয়েছি। কারণ, আমার বাবাও সংস্কৃতিমনা ছিলেন। ১৯৫৪ সালে আমি প্রথম মঞ্চে উঠি। এখন আমার অভিনয়জীবনের বয়স ৭২ বছর, আর আমার নিজের বয়স ৮১ বছরের বেশি।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অভিনয় মানেই শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলা বা চেহারা দেখানো নয়। অভিনয় মানে শিল্প, অভিনয় মানে বাস্তবতাকে তুলে ধরা। জীবনে সাফল্য আসবেই, কিন্তু সাফল্যের চেয়ে বড় হলো সততা ও নিষ্ঠা। নাটক মানুষকে মানুষ হতে শেখায়, অন্যের আনন্দ-দুঃখ অনুভব করতে শেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। মনে রাখবে, অভিনয় হলো মিথ্যা। কিন্তু একজন অভিনেতা কিংবা নাট্যকলার শিক্ষার্থী হিসেবে সেই মিথ্যাটাকে বাস্তব করে তুলতে হবে, বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। তাহলেই একজন প্রকৃত অভিনেতা হওয়া সম্ভব।’
সাত দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসব ১৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন একটি করে নাটক মঞ্চায়িত হবে। নাট্যোৎসবে অংশ নিতে ঢাকা থেকে এসেছে নাট্যদল ‘ক্ষ্যাপাটে’। এ ছাড়া ভারত থেকে আরো একটি নাট্যদল অংশ নেবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

