কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা, পণ্য বৈচিত্র্য এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কেউ যদি গবেষণা ও উদ্ভাবনে নিজেকে নিবেদিত করতে চান, তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া কেউ যদি কৃষিভিত্তিক বা অন্য কোনো খাতে উদ্যোক্তা হতে চান, সেই উদ্যোগও সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে ‘কৃষিই কৃষ্টি-কৃষিই সমৃদ্ধি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাদ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে, সেই যাত্রায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আজ যারা ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করছেন, তাদের আবেগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারেরও গভীর প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে। এই তরুণ শিক্ষার্থীদের পথচলাই আগামী দিনের কৃষি ও বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ ও ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনা হয়েছে এই সরকারের আমলেই। এবং চার বছর পর যখন তারা স্নাতক সম্পন্ন করবেন, তখনও এই সরকারের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই তাদের শিক্ষাজীবন পরিপূর্ণ হবে। তাই সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা, পরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন-ভাবনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়ে দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, এর মাধ্যমে নগদ অর্থ ও ঋণ সুবিধা প্রদানে বিএনপি সরকারের পূর্ববর্তী অর্জনের ধারাবাহিকতাকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের কৃষি অগ্রযাত্রার সূচনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কৃষিখাতকে শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
কৃষকদের জীবনমান উন্নত করা, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের কাছে সহজ ও সুলভ শর্তে ঋণ পৌঁছে দেওয়া এবং সেচ, বীজ, সার ও কৃষিযন্ত্রের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ কৃষকদের কাছে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন।
বাংলাদেশকে খাদ্যে আরও বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, কৃষকদের জীবনমান উন্নত করা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শুধু কৃষির উৎপাদনশীলতা ও বহুমুখীকরণ বৃদ্ধি করাই নয়, বরং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সহজ ও সুলভ শর্তে ঋণ পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে সেচ, বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্রের মতো কৃষির প্রয়োজনীয় সব উপকরণ কৃষকদের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইন ও মূল্যশৃঙ্খল গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক কৃষিপণ্য পর্যাপ্ত উৎপাদিত হলেও উৎপাদন এলাকা থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং সংরক্ষণের অভাবে একটি অংশ নষ্ট হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি ও আধুনিক কৃষি বাজার গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত ও অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রপ্তানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে ভ্যালু অ্যাডিশন (মূল্য সংযোজন) ও ডাইভার্সিফিকেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইন আরও কার্যকর করা, সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্যে ভ্যালু অ্যাডিশন করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় দাবি। উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আম থেকে চাটনি বা জুস এবং টমেটো থেকে সস বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব। এভাবে কৃষিপণ্যে ভ্যালু অ্যাড করতে পারলে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হবে এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা যাবে। এর মাধ্যমে নতুন পণ্য বৈচিত্র্য সৃষ্টির পাশাপাশি রপ্তানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু কৃষি শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ সামগ্রিক ফুড ইকোসিস্টেমের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশবাসী সেই অবদান প্রত্যক্ষ করে আসছে এবং আগামী দিনেও এই ধারা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহস, নেতৃত্ব ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত কাণ্ডারী আমাদের শিক্ষার্থীরাই। শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


